• ৫০ মিটার এলাকাজুড়ে ধসে ক্ষতি, আত্রেয়ীর বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, পতিরাম: আত্রেয়ীর বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে বালুরঘাটে ফের আত্রেয়ী নদীর বাঁধে ফাটল। এবার প্রায় ৫০ মিটার এলাকাজুড়ে ধস নামায় প্রমাদ গুনছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।


    গত সোমবার আত্রেয়ীর চকভৃগু সরোজরঞ্জন সেতুর কাছে বাঁধে গর্ত লক্ষ্য করা গিয়েছিল। পরে তা মেরামতও করা হয়। এরপর বুধবারই শহর লাগোয়া ময়ামারি এলাকায় ধস নামায় এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


    স্থানীয়দের দাবি, শহরের ওপারে চকভৃগু, ভৈরবীতলা ও ময়ামারিতে নদীবাঁধের অবস্থা ভালো নয়। ওই স্থানগুলিতে বারবার বাঁধে বিপত্তি বাড়ছে। যদিও বুধবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। দ্রুত ওই  এলাকায় বাঁধ মেরামতির কাজ করছে সেচদপ্তর। সোমবার সরোজরঞ্জন সেতুর পাশে বাঁধের ফাটল ধরার পর মঙ্গলবার মেরামত শুরু হয়। বুধবার ওই জায়গা ঢালাই করা হয়েছে।


    এদিকে গত তিনদিন ভারী বর্ষণ হয়েছে জেলায়। তার উপর বাংলাদেশ থেকে আসা জলে ফুঁসছে আত্রেয়ী নদী। ফলে নদীপাড়ে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও সেচদপ্তর সূত্রে খবর, আত্রেয়ীর জল বিপদসীমার নীচেই রয়েছে। 


    দপ্তরের বালুরঘাট সদর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অঙ্কুর মিশ্র বলেন, আত্রেয়ীর ময়ামারি এলাকায় বাঁধে ফাটলের খবর পেয়ে আমাদের টিম গিয়েছিল। ওই জায়গায় বাঁধে সমস্যা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা হবে। ময়ামারি এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডলের কথায়, গত বছর এই বাঁধের অন্য একটি অংশে ফাটল ধরেছিল। তখন দ্রুত বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ মেরামত করা হয়েছিল। এবার তার কাছেই প্রায় ৫০ মিটার জুড়ে ধস নামায় বাঁধের অনেকটা অংশ ফাটল ধরেছে। কাছেই বাড়ি বলে খুব ভয়ে রয়েছি। বাঁধ ভাঙলে বাড়িঘরের সঙ্গে আমরাও ভেসে যাব। 


    বালুরঘাট মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত তিনদিনে বালুরঘাট সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ২০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আসা জলে ভরে উঠেছে আত্রেয়ী নদী।  আরেকটু জল বাড়লে নদীর তীরবর্তী জমিতে জল ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বাঁধ ভেঙে গেলে চকভৃগু এলাকার ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং চকভৃগু ও জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের অনেক এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। সেকথা মাথায় রেখে সেচদপ্তরের তরফে বাঁধগুলিতে নজরদারি শুরু হয়েছে। 


    চকভৃগু এলাকার বাসিন্দা তথা শিক্ষক প্রহ্লাদ রায়ের বক্তব্য, গোটা চকভৃগু এলাকাতেই বাঁধের পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেক জায়গায় দুর্বল হয়েছে। আগের দিন সরোজরঞ্জন সেতুর কাছে বাঁধ ভেঙেছিল, আজ ময়ামারি এলাকায়। টানা বৃষ্টি হলে বাঁধের আর কোন অংশ ভেঙে যাবে বলা মুশকিল। আমরা খুবই আতঙ্কে রয়েছি। এবার এই বাঁধ কংক্রিটের করা হোক। 
  • Link to this news (বর্তমান)