পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু, গৃহপ্রবেশ করা হল না রবীন্দ্রনগরের রাখীর
বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: গৃহপ্রবেশ করা হল না রাখীর। বুধবার দুপুরে দিদির সঙ্গে গৃহপ্রবেশের বাজার করতে বেরিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মারা গেলেন শিলিগুড়ি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা রাখী বিশ্বাস রায় (৪০)।
আগামী ১১ জুলাই তাঁদের নতুন বাড়ির গৃহপ্রবেশ হওয়ার কথা ছিল। সব আয়োজন সম্পন্ন করে এনেছিলেন। এদিন তিন বছরের শিশুপুত্রকে স্কুলে দিয়ে দিদিকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন গৃহপ্রবেশের বাকি বাজার করতে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের কাছে কাছারি রোডের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন দুই বোন। সেসময় পিছন থেকে স্কুলে বাসের সজোরে ধাক্কায় একটি ম্যাক্সিক্যাব ফুটপাতে উঠে এসে রাখীকে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
হাসপাতালেই দাঁড়িয়ে মৃতার দিদি শম্পা রায়, জামাইবাবু সুনীল রায় সহ পরিবারের সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁদের ঘরের মেয়ে আর বেঁচে নেই। রাখীর জামাইবাবু বলেন, গৃহপ্রবেশের সব আয়োজন করে রেখেছিল। এদিন বাজার করার জন্য ফুটপাত দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিল। সেই ফুটপাতও নিরাপদ নয়। গৃহপ্রবেশের আনন্দ মিলিয়ে গিয়ে তাঁর স্বপ্নের সেই বাড়ি শোকের ছায়ায় ঢেকে গিয়েছে। তিন বছরের শিশুপুত্র মা ছাড়া বাঁচবে কী করে।
রাখীর স্বামী সঞ্জয় পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বিশ্বাস হচ্ছে না স্ত্রী নেই। এটা হতে পারে না। রাখী একসময় শিলিগুড়ি বরদাকান্ত বিদ্যাপীঠের পার্শ্বশিক্ষিকা ছিলেন। সেই কাজ ছেড়ে তিনি গৃহশিক্ষকতা শুরু করেন। এদিন সকালে টিউশনি শেষ করে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে দিদির সঙ্গে বাজার করতে বের হন। দেড়টায় ছেলের স্কুল ছুটি হয়। সেই ফাঁকে দিদিকে নিয়ে বাজার যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। মৃতার দিদি শম্পা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তিন বছরের শিশুটা স্কুলে বসে ভাবছে স্কুলে ছুটি হয়ে যাওয়ার পরেও মা কেন তাকে নিতে আসছে না। কী করে বলব, আর কোনওদিন তোর মা আসবে না।
রাখীর জামাইবাবু বলেন, যাদের দোষে আমাদের পরিবারে এতবড় সর্বনাশ হল, তাদের কি উপযুক্ত শাস্তি হবে, শিলিগুড়িতে স্কুলবাসের বেপরোয়া চলাচল, ট্রাফিকের অব্যবস্থা কি বন্ধ হবে, এই মৃত্যু থেকে কি শিক্ষা নেবে শিলিগুড়ির পুলিস প্রশাসন?