• যাত্রী না নামিয়ে স্টেশন পার, মাঝপথ থেকে চুঁচুড়ায় ফিরল বর্ধমান লোকাল
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নির্দিষ্ট স্টপে বাস দাঁড়ায়নি বলে যাত্রীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছে—এমন ঘটনা বিরল নয়। কিন্তু নির্দিষ্ট স্টেশনে আস্ত একটা ট্রেন থামতে ভুলে গেল, এও কি সম্ভব? শুধু তাই নয়, ওই স্টেশনের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে ফের পিছিয়ে এল সেই ট্রেন। আপাতভাবে ‘আষাঢ়ে গপ্পো’ মনে হলেও এমনই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকলেন আপ বর্ধমান গ্যালপিং লোকালের যাত্রীরা। হতবাক চুঁচুড়া স্টেশনের লোকজনও। বেনজির এই ঘটনায় যাত্রীরা ‘খুশি’ হলেও ‘কপাল পুড়েছে’ চালকের। তাঁকে আপাতত চালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে রেল। শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনা নিয়ে বুধবার দিনভর হাসি-মশকরায় মেতে রইলেন ট্রেনের নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। 


    হাওড়া-বর্ধমান গ্যালপিং লোকাল হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখার অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন। গ্যালপিং হওয়ায় সব স্টেশনে এই ট্রেন থামে না। ভিড় কিছুটা কম হয় বলে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে অনেকে এই ট্রেন পছন্দ করেন। মঙ্গলবার হাওড়া থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টার পরই ছেড়েছিল। শ্রীরামপুর, শেওড়াফুলি, চন্দননগর, চুঁচুড়া ও ব্যান্ডেলের যাত্রীরা অন্যান্য দিনের মতো খোশগল্পে মেতেছিলেন। ট্রেন ছুটছিল দ্রুত গতিতে। তাল কাটে চুঁচুড়া স্টেশন আসতেই। যাত্রীরা যখন নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অবাক হয়ে তাঁরা দেখেন, ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে এগিয়ে যাচ্ছে হুগলি স্টেশনের দিকে। চুঁচুড়ার যাত্রীরা তো বটেই, অন্যরাও হইহই করে ওঠেন। কিন্তু শুনছে কে! ততক্ষণে স্টেশন ছাড়িয়ে অনেকটা দূরে চলে গিয়েছে ট্রেন। অনেকে ভাবতে শুরু করেছেন, তাহলে কি এই ট্রেনের থামার স্টেশন বদলে গিয়েছে? হুগলি স্টেশন ও চুঁচুড়া স্টেশনের মাঝে আচমকা ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও বেড়ে যায়। এসবের মধ্যে চুঁচুড়া স্টেশনের রেলকর্মীরা ছুটোছুটি শুরু করে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হতবাক হয়ে যাত্রীরা দেখেন, একটু একটু করে পিছচ্ছে ট্রেন। চুঁচুড়া স্টেশনে এসে ট্রেনটি থামে। কার্যত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নেমে পড়েন চুঁচুড়ার যাত্রীরা। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন, এটা কীভাবে সম্ভব! নাটকীয়তার অবশ্য তখনও বাকি ছিল! চুঁচুড়ায় ট্রেনটি ফিরে আসতেই রেলকর্মী, অফিসাররা ছুটে আসেন। নতুন চালক প্রায় ১৫ মিনিট পর ট্রেন ছাড়েন।


    হাওড়ার একটি হোসিয়ারি কারখানার কর্মী তথা চুঁচুড়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর কর্মকার এই ট্রেনের নিত্যযাত্রী। তিনি বলেন, ‘কী হল, কেন হল, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে স্টেশন ছেড়ে চলে যাওয়া ট্রেন আবার পিছিয়ে এসে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে যাবে, ভাবতেই পারছি না। বহু বছর লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করছি। এমনটা কখনও ঘটেনি।’ ঘটনা যে নজিরবিহীন, মানছেন রেলকর্তারাও। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে ২৩০ মিটার এগিয়ে গিয়েছিল। কেন ওই ঘটনা ঘটল, তা জানতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পরই ওই ট্রেনের চালককে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)