সংবাদদাতা, বনগাঁ: আবারও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের ক্ষোভের মুখে বাগদার স্থানীয় নেতৃত্ব। বুধবার বাগদায় নির্বাচনী প্রচারে এসে দলের স্থানীয় নেতাদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী। এদিন বাগদার একটি লজে কর্মিসভায় নারায়ণবাবু বলেন, তৃণমূলের কোনও নেতা সরকারি জমি দখল করতে পারবেন না। দখল যদি করে থাকেন, নিজে থেকে দখল মুক্ত করুন। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শেষ সময়। পরশু আমাকে বা প্রশাসনকে যদি হস্তক্ষেপ করতে হয়, তাহলে আপনাদের জন্য সেটা বিপজ্জনক হবে। নেতাদের সতর্ক করে এদিন জেলা সভাধিপতি বলেন, আমার কাছে নিশ্চয় কিছু তথ্য আছে। না হলে এধরনের কথা বলছি কেন! পাশাপাশি তাঁর পরামর্শ, যাঁরা সরকারি জমি দখল করে আছেন, সেগুলি ছেড়ে দিন। জানি, কুকুরের লেজ সোজা হয় না। তবে এহেন নেতা-কর্মীর লেজ কীভাবে সোজা করতে হয়, তা তৃণমূল ভালোই জানে। তবে গরিব মানুষ কেউ সরকারি জমিতে থাকলে, তাকে উচ্ছেদ করবেন না। ভোটের পর আমাকে বলুন, আমি পাট্টার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে বলব। নারায়ণবাবুর বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি দেবদাস মন্ডল বলেন, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান সরকারি জমি দখল করে বসে আছেন। আগে তাঁকে উচ্ছেদ করে দেখাক দল।
পাশাপাশি এদিন বাগদার সিন্দ্রানীতে কর্মিসভা করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সিন্দ্রানী বাজারের পাশে একটি সমবায় গৃহে সভা করেন তিনি। মহিলাদের প্রতি তাঁর বার্তা, আপনাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কিছু দিয়েছেন। আপনারা কিছু দিন। রাতে শুয়ে ভাবুন, কী নিলেন, আর প্রতিদানে কী দিলেন! এদিন মন্ত্রীর কাছে এলাকায় একটি হাসপাতাল তৈরির দাবি জানান গ্রামের বাসিন্দারা। সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখন নির্বাচন বিধি চালু রয়েছে। এবিষয়ে কিছু বলব না। ভোট মিটলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বাসিন্দাদের দাবি তুলে ধরব। এই সভায় বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।