স্কুলের জমিতে মদ-গাঁজার কারবার, হেনস্তার শিকার প্রধান শিক্ষক
বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, বজবজ: শতাব্দী প্রাচীন বুড়ুল হাই স্কুলের জমিতেই বেআইনি নির্মাণ করে দিনের পর দিন লুকিয়ে চলছিল দেশি মদ ও গাঁজার কারবার। এমন অভিযোগ স্কুলের পড়ুয়া থেকে প্রধান শিক্ষকের। তা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক তুষারকান্তি মণ্ডল। পড়ুয়া থেকে অন্য শিক্ষক, শিক্ষিকারাও তাঁকে সমর্থন জানিয়ে সরব হন। তার জেরে কারবারিদের হাতে বিভিন্ন সময়ে হেনস্তা ও নিগৃহীত হতে হয় তাঁকে। বদলির হুমকিও শুনতে হয় প্রধান শিক্ষককে। পুরো ঘটনাটি পুলিস ও প্রশাসনের কাছে জানান তিনি। প্রথম দিকে পুলিস গিয়ে হেনস্তাকারীদের ধমক দেওয়া ছাড়াও একটি বেআইনি বাঁশের চালার উপরের অংশ ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু তাতে দমেনি কারবারিরা। এনিয়ে ফের প্রধান শিক্ষক পুলিসের কাছে অভিযোগ করেন। তখন ফের তাঁকে হেনস্তা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে স্কুলের পড়ুয়াদের ভিতর অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রধান শিক্ষককে এইভাবে অসম্মান করার প্রতিবাদে পড়ুয়ারা বুধবার স্কুল গেটের বাইরে পুলিস ও প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে পোস্টার দেয়।
বিষয়টি পুলিস সুপার রাহুল গোস্বামীর কানে যায়। তাঁর নির্দেশে পুলিসের সিনিয়র আধিকারিক সহ একটি টিম এদিন ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে। প্রধান শিক্ষক পুলিস আধিকারিকদের কাছে স্কুল চত্বরে তৈরি ওই বেআইনি নির্মাণ ভাঙার পাশাপাশি নেশার জিনিস বিক্রি চিরতরে বন্ধের দাবি জানান। পুলিস সুপার রাহুল গোস্বামী এদিন পৈলানে জেলা কার্যালয়ে এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোথাও মদ, গাঁজা সহ কোনও নেশার জিনিস বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। এটা তিনি সমস্ত থানা ও আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই কাজের পিছনে যদি কোনও পুলিসকর্মীর পরোক্ষ ইন্ধন থাকে, তা ধরা পড়লে রেয়াত করা হবে না। প্রধান শিক্ষক রাতে জানান, এ ব্যাপারে যাবতীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিসকর্তারা।