• বজবজে সোনার দোকানে ডাকাতির মূল চক্রী শোভরাজ সহ গ্রেপ্তার তিন
    বর্তমান | ০৪ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজের বুইতা গ্রাম পঞ্চায়েতের মিঠাপুকুরে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কুখ্যাত দুষ্কৃতী শোভরাজ কাজিকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় বুধবার ভোরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তবে ওই এলাকাটি ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার মধ্যে নয়। তদন্তের স্বার্থেই সেই গ্রামের নাম গোপন রেখেছে তারা। উল্লেখ্য দু’দিন আগে শোভরাজের আরও দুই সঙ্গী বরজাহান শেখ এবং শেখ সাদ্দামকে পাকড়াও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। বুধবার দুপুরে পৈলানে ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার সদর কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিস সুপার রাহুল গোস্বামী। তিনি বলেন, ডাকাতির সময় যে নগদ টাকা লুট হয়েছিল, তার মধ্যে আপাতত ১৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি কিছু সোনা ও রুপোর গয়নারও হদিশ মিলেছে। তল্লাশি চলছে, আশা করা হচ্ছে, বাকি টাকা ও গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হবে। পুলিস সুপার বলেন, অপারেশনের সময় এই দলটি দু’টি মোটরবাইক নিয়ে এসেছিল। তার মধ্যে একটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গে মিলেছে একটি হেলমেট ও বাইকের চাবি। মূল চক্রী সহ পাঁচজনকেই পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জেরা করা হচ্ছে। 


    পুলিস সুপার বলেন, রাজ্যের অন্যত্র সোনার দোকানে যেসব ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে ফারাক রয়েছে মিঠাপুকুরের। এখানে যারা অপারেশন চালিয়েছে, তারা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা। বাকি জায়গায় চক্রের মাথা থেকে শুরু করে ডাকাতরা সকলেই বহিরাগত। বজবজের ঘটনার মূল চক্রী সাতাশ বছরের শোভরাজ দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত। তার বাড়ি বজবজের আলমপুরে। বজবজ ও নোদাখালি গ্রামীণ এলাকা জুড়ে তার দাপটে অতিষ্ঠ আম জনতা। শোভরাজের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, মাদক পাচার, ভয় দেখিয়ে তোলা আদায় সহ মোট আটটি মামলা ঝুলে রয়েছে। গত বছর বজবজের এক সময়ের ত্রাস হুলতাল নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুনের চেষ্টা চালায় শোভরাজ, এমনটাই অভিযোগ। সেই মামলার বিচার চলছে। সম্প্রতি টাকা জোগাড়ের জন্য সোনার দোকানে লুটের পরিকল্পনা করে শোভরাজ। এই কাজে বরজাহান শেখ ও শেখ সাদ্দামকে সঙ্গে নেয় সে। টাকার বিনিময়ে মোটরবাইক, হেলমেট ও গেঞ্জি ভাড়া দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে শেখ সাদ্দাম হোসেন ও জইদুল শেখ। পুলিস সুপার জানান, অপরাধীদের হদিশ পেতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ও মোবাইলের সূত্র ধরে এই ঘটনার কিনারা করা গিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)