নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টেবিলে কাঁসার থালা-বাটিতে পরপর সাজানো রয়েছে জিভে জল আনার খাবার। মাছের বিভিন্ন ধরনের পদ, পোস্ত, বেশ কয়েকরকম ভাজা, পায়েস, বড় সাইজের রসগোল্লা, দই সবকিছুই রয়েছে। কোনও হোটেলের দৃশ্য নয়। বর্ধমান-১ ব্লক অফিসে এভাবেই বিডিওর আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করা হল। সরকারি অফিসে এধরনের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করা যায় কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিডিও তৃণমূল নেত্রী তথা বিডিএর চেয়ারম্যান কাকলি তা গুপ্তকে প্রণাম করায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। একজন সরকারি আধিকারিক এভাবে কি এক নেত্রীর পায়ে হাত দিতে পারেন? সেই প্রশ্ন তুলে জলঘোলা করছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা সেই ছবি পোস্ট করেছে। যদিও বিডিও এবং নেত্রী উভয়পক্ষের দাবি, এটাই ভারতীয় সংস্কৃতি। এখানকার ঐতিহ্য, পরম্পরা বড়দের প্রণাম করতে শেখায়। তাছাড়া সবটাই হয়েছে অফিস ছুটির পর। তাই বিতর্কের কোনও জায়গা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিডিওকে চেয়ারে বসিয়ে বিডিএর চেয়ারম্যান এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা যুব নেতা মানস ভট্টাচার্য আপ্যায়ন করছেন। বিডিওর গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন যুবনেতা।। শাঁখ বাজিয়ে আশীর্বাদ করা হচ্ছে। বিজেপি নেতা সুধীররঞ্জন সাউ বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কোথায় থাকল? একজন বিডিও যদি শাসকদলের নেত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তাহলে প্রশ্ন উঠবে। বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা অন্যায় নয়। কিন্তু সরকারি অফিসে এসব মানায় না। বিডিও রজনীশ যাদব বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর সহকর্মীরা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। কাজের চাপে বাড়ি যেতে পারি না। তাই সহকর্মীদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। সেখানে বিডিএর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সহ অন্যন্যরা ছিলেন। বিডিএর চেয়ারম্যান আমার মায়ের বয়সি। উনি আশীর্বাদ করায় প্রণাম করেছি। এই শিক্ষা তো আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি দিয়েছে। এটা নিয়ে কেন জলঘোলা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কাজ ফেলে রেখে অনুষ্ঠানে যোগ দিইনি। আমরা আইন মেনে কাজ করি। তাই প্রণাম করলেই নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়ে যাবে এমনটা ভাবার কারণ নেই। বিডিএর চেয়ারম্যান বলেন, বিজেপির কোনও কাজ নেই। তাই ওরা এসব নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে। তাতে লাভ হবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মানবিকতা, সৌজন্য শিখিয়েছেন।