• দুর্যোগের মধ্যেই কাটোয়ায় দখলমুক্ত অভিযান রেলের, বস্তিবাসীরা গৃহহীন
    বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: বইখাতাগুলো বৃষ্টিতে ভিজছে। তার সামনে বসে থাকা আকাশ বিশ্বাসেরও চোখে জল। তার একটা পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। অপর একটা পায়ের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু পায়ের থেকেও তার চিন্তা বেশি স্কুলের বইখাতা নিয়ে। আরপিএফ এসে তাদের ঘর ভেঙে দিয়ে গিয়েছে। বইখাতা নষ্ট হয়ে গেলে পড়াশোনা করবে কীভাবে। মাথাগোঁজার ঠাঁই কোথায় হবে। বাবা হকারি করে সংসার চালান। মা নেই। পাঁচ হাজার টাকার কমে কোথাও ঘরভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। যা দেওয়া তাদের সাধ্যের বাইরে। এই অবস্থায় কোথায় যাবে, কী করবে। রেল কি আরও একটু মানবিক হতে পারত না, প্রশ্ন আকাশের। একই প্রশ্ন ঘর হারানো সৌভাগ্য দাস বৈরাগ্য, সোমা বিশ্বাসদেরও। কাটোয়ার ছোট লাইনে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল এই কুলি কলোনি। কলোনিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার বাস করত। সব মিলিয়ে প্রায় দুশোর বেশি বাসিন্দা রয়েছেন। কেউ ষাট বছর, কেউ পঞ্চাশ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। বেশিরভাগেরই জীবিকা হকারি, মুটের কাজ। সবাই আজ গৃহহীন। ছেলেপুলে, বয়স্ক মা-বাবাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। বৃষ্টির মধ্যে কেউ গাছের নীচে আশ্রয় নিয়েছেন। কারও আবার সেটুকুও জোটেনি। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে ভিজছেন। 


    পনেরো দিন আগেই কাটোয়া শহরের ছোটলাইন এলাকার এই কুলি কলোনি ফাঁকা করার জন্য নোটিস দিয়েছিল রেল। তারপর এদিন সকালেই আরপিএফ নিয়ে এসে ঝুপড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। কয়েকজন অবশ্য নিজে থেকেই তাঁদের মালপত্র সরিয়ে নেন। 


    এদিন কাটোয়ার আরপিএফ ইনসপেক্টর আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কাটোয়া স্টেশনে এখন অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। আমরা জবরদখল সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগেই নোটিস দিয়েছিলাম। যারা আগে থেকে সরিয়ে নেননি তাদের ঘর ভাঙা হচ্ছে, তবে জিনিসপত্র নষ্ট না করে। এদিন রেলের অভিযানের পর দেখা যায়, কলোনির ঘরগুলি বাঁশের কাঠামো নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাথার টিন, ত্রিপলের ছাউনি উধাও। বৃষ্টিতে ভেজা জিনিসপত্র লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে রয়েছে। কাঠের চৌকি উঠোনে ভিজছে। ভিজে বিছানা আঁকড়ে ধরে খোলা আকাশের নীচে বসে কলোনির বাসিন্দারা। 


    উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে চারবার নোটিস দেওয়া হয়েছে রেলের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য। কাটোয়া স্টেশন লাগোয়া দু’টি রেল কলোনি রয়েছে। পশ্চিম ও মধ্য রেলওয়ে কলোনিতে বহু বছর ধরে অনেক মানুষ ঝুপড়ি করে বসবাস করছেন। তাদের বেশির ভাগই হকারি, কুলি ও মুটের কাজ করে সংসার চালান। সেখানেও কয়েকদিন আগে এমন অভিযান চালানো হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)