• দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য দিয়ে যাওয়া বেহাল রাস্তার সংস্কারে গরজ নেই কারও
    বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: কথায় বলে ভাগের মা গঙ্গা পায় না। তেমনই অবস্থা হয়েছে চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের বার্নিয়া-ছত্রগঞ্জ রাস্তাটির। দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ওই রাস্তাটি থাকায় কোনও গ্রামপঞ্চায়েতই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে বছরের পর বছর ধরে বার্নিয়া গ্রামে ঢোকার একমাত্র রাস্তাটি বেহাল হয়ে রয়েছে। বৃষ্টি হলে কাদা পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয় গ্রামের বাসিন্দাদের। বার্নিয়া থেকে ছত্রগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে গ্রামবাসীরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছেন, কিন্তু কাজ হয়নি। ফলে ক্ষুব্ধ ওই  গ্রামের বাসিন্দারা। 


    ‘ভাগের রাস্তা’ বলেই যে কিছু করা সম্ভব হয়নি, তা অকপটে স্বীকার করলেন ভগবন্তপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধায় দয়াল লোহার। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, রাস্তাটির দৈর্ঘ্য বেশি নয়। কিন্তু কিছুটা আমাদের গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে আর কিছু বসনছড়ার মধ্যে পড়ে। দু’টি গ্রামপঞ্চায়েতের টানাপোড়েনের ফলেই রাস্তাটি এতদিন সংস্কার করা হয়নি। যেহেতু আমার গ্রামপঞ্চায়েতের বার্নিয়া গ্রামের বাসিন্দাদেরই একমাত্র বেরনোর পথ, তাই এবার পঞ্চায়েত সমিতিকে দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চন্দ্রকোণা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা তৃণমূলের ওই ব্লকের সভাপতি হীরালাল ঘোষও রাস্তাটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রাস্তার অবস্থা দেখে আমাদেরও খারাপ লাগছে। বিডিওকে বলে যেমন করে হোক রাস্তাটি সংস্কার করতে হবে।


    চন্দ্রকোণা টাউন থেকে পলাশচাপড়ি রাস্তার মাঝে রয়েছে ছত্রগঞ্জ। সেই ছত্রগঞ্জ থেকেই দু’কিলোমিটারের একটি রাস্তা বার্নিয়া গ্রামে গিয়েছে। ওই গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশো পরিবারের বসবাস। বাজার, হাসপাতাল, হাইস্কুল, ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে সমস্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যাওয়ার গ্রামবাসীদের একমাত্র ওই রাস্তাটি। ব্লকের যেখানে বহু জায়গায় পুকুর-ঘাট যাওয়ার রাস্তাও ঢালাই হয়ে গিয়েছে। সেখানে ওই রাস্তাটি এখনও মোরামই থেকে গিয়েছে। রাস্তার অবস্থাও বেহাল। বর্ষার সময় সেই রাস্তার আরও খারাপ অবস্থা হয়। পরিষ্কার পোশাক পরে হেঁটে যাওয়া যায় না। ওই গ্রামের বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, মানস চক্রবর্তী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বুবাই ঘোষাল প্রমুখ বলেন, তার উপর রাস্তাটি বেজায় সরু। রাস্তার উপর দিয়ে একটি টোটো গেলে অন্য গাড়ি সাইড দিতে পারে না। অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে সমস্যা হয়। ফলে রাস্তার জন্য আমরা খুব সমস্যায় রয়েছি।


    এলাকার বাসিন্দারা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছেন।  দুই গ্রামপঞ্চায়েত একসঙ্গে উদ্যোগ না নেওয়ায় আবেদন ফাইল বন্দি হয়েই রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। হতাশ গ্রামবাসীরা ‘দিদিকে বলো’তেও জানিয়েছিলেন। সেখান থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও নিচুস্তরে এখনও তার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, রাস্তাটি নিয়ে আমরাও বেশ অস্বস্তিতে রয়েছি। কয়েক মাসের মধ্যেই এর একটা বিহিত করতেই হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)