টেলিমেডিসিনে বাংলায় চালু ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা
বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা করানোর জন্য আর কথায় কথায় ছুটে আসতে হবে না কলকাতায়। স্বাস্থ্যদপ্তর চালু করল টেলিমেডিসিন ব্রেস্ট ক্যান্সার ক্লিনিক। পিজি হাসপাতালের নামকরা চিকিৎসকরা এবং তাঁদের সহযোগীরা প্রতি শুক্রবার দুপুর দুটো থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত স্বাস্থ্যইঙ্গিত টেলিমেডিসিনে এই অনলাইন ক্লিনিক চালাবে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেছিলেন, আমরা আশা করছি দূরদূরান্তের রোগীরা নতুন উদ্যোগের ফলে উপকৃত হবেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৪টি মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্সার চিকিৎসার আউটডোর পরিষেবা চলে। এই ধরনের আউটডোর চালু রয়েছে ১৪টি জেলা হাসপাতালেও। সবমিলিয়ে এই ৩৮টি হাসপাতালকে নয়া পরিষেবার জন্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে পিজি’র সঙ্গে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যইঙ্গিত টেলিমেডিসিনে পিজি হবে ‘হাব’। আর এই ৩৮টি হাসপাতাল হবে ‘স্পোক’। ওইসব হাসপাতালের আউটডোরে আসা রোগিণীদের উপসর্গ জেনে রিপোর্ট দেখে মতামত দেবেন পিজি’র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। যাঁদের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবেই শুধুমাত্র চিকিৎসা করা সম্ভব, তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে সে কথা। যাঁদের কলকাতায় আসা একান্তই জরুরি, তাও বলে দেওয়া হবে। জেনারেল সার্জারি বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা অধ্যাপক ডাঃ দীপ্তেন্দ্র সরকার গোটা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন।
প্রসঙ্গত রাজ্য সহ গোটা দেশেই মহিলারা আক্রান্ত হচ্ছেন ব্রেস্ট ক্যান্সারে। প্রতি ১০০ জন ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলার মধ্যে ২৬ শতাংশই ভোগেন স্তন ক্যান্সারে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সার্ভাইক্যাল বা জরায়ু মুখের ক্যান্সার। স্বাস্থ্য ইঙ্গিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা চালু করার আগে আশা-এএনএমদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরাও। একদিনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেনি রাজ্য। অন্তত তিন বছর ধরে এই উদ্যোগ চলছে। এর আগে শুধু ২০২২-’২৩ সাল বা এক বছরে ৫৭ লক্ষ মহিলার স্তন পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৯ হাজার মহিলার ব্রেস্ট লাম্প পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে ১৮০০ জনের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে।