আটকে গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল, মমতার উষ্মা রাজ্যপালের বিরুদ্ধে
বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলিপুরের ‘সৌজন্য’-এ দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহস্পতিবার এক সৌজন্যমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণপিটুনি বিল আটকে রাখায় রাজভবনের ভূমিকা নিয়ে সেখানেই উষ্মা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এদিন নচিকেতা চক্রবর্তী, কবির সুমন, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, আবুল বাশার, সমীর পুততুণ্ডসহ প্রায় ৪০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে একেবারে আড্ডার মেজাজে সৌজন্য বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং ইন্দ্রনীল সেনের মতো মন্ত্রীরাও। ১৫ আগস্টের পরে বিদ্বজ্জনদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার আলোচনায় বসবেন বলে ঠিক হয়েছে।
এদিনের আলোচনা শুরু হয় বিকেল ৪টেয়। সৌজন্য বিনিময় চলে ঘণ্টাখানেক। গান-কবিতার মাঝে তাঁদের স্বাস্থ্যেরও খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। তারই মাঝে মঞ্চের কিছু প্রতিনিধির মধ্যে থেকে উঠে আসে গণপিটুনি প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, তখনই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজভবনে পাঁচবছর আটকে আছে গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল। বিলটি রাজভবন থেকে যথাসময়ে ছাড়া হলে রাজ্য এতদিনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারত।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল (প্রিভেনশন অব লিঞ্চিং) বিলটি বিধানসভায় পাস হয়। সেটি আইনে পরিণত হলে বিশেষ মতলবে গণপ্রহারে হত্যার ঘটনায় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ওইসঙ্গে হতে পারে এক থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও। আবার, গণপিটুনিতে কেউ জখম হলে দোষীদের তিনবছর পর্যন্ত জেল খাটতে হতে পারে, অথবা জরিমানা হতে পারে পাঁচ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে হতে পারে দুটিই। তবে প্রথমে জগদীশ ধনকর, তার পরে সি ভি আনন্দ বোস—দুই রাজ্যপালের কেউই এই বিলে স্বাক্ষর করেননি। এই কারণে ইচ্ছা থাকলেও রাজ্যের পক্ষে গণপিটুনির বিরুদ্ধে যথোচিত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। মত ওয়াকিবহাল মহলের।
বাংলার প্রতি বঞ্চনার বিরুদ্ধে, নির্বাচন পর্বে, গণমঞ্চের অনেকেই সরব হয়েছিলেন। তাঁরা সুর চড়িয়েছিলেন রাজ্যের পক্ষ নিয়ে। সূত্রের খবর, এদিন কথা প্রসঙ্গে, সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ারই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মঞ্চ আরও বড় এবং শক্তিশালী করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। বিশিষ্টজনদের সঙ্গে খোশ মেজাজে আলোচনার পাশাপাশি বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই জারি রাখার কথাও উঠেছে। ফলে শিল্প-সংস্কৃতি-মনস্ক আরও মানুষকে এই মঞ্চে যুক্ত করা প্রয়োজন বলেই তাঁর মত। একইসঙ্গে, ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী দিনেও তাঁদের সকলকে সামনের সারিতে থাকার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও নানাভাবে বাংলার এগনোর পথ রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিন এই বলে উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা। তাই বাংলার স্বার্থে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এদিনের মেনুতে ছিল রোল, ঘুগনি, ফিশ ফ্রাই, ব্রাউনি প্রভৃতি। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে গান গেয়েছেন নচিকেতা চক্রবর্তী, কবির সুমন এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়।