• গ্রামে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি: মাংস উৎপাদনে স্বয়ম্ভর হওয়ার উদ্যোগ
    বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
  • কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ছাগল পালন নিয়ে বিশেষ নীতি তৈরি করল রাজ্য সরকার। ছাগল পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য। পাশাপাশি রাজ্যে মাংসের উৎপাদন বাড়ানোও উদ্দেশ্য সরকারের। সাম্প্রতিককালে রাজ্যে ডিম, মাছ ও মুরগির উৎপাদন প্রচুর বেড়েছে। প্রোটিন সমৃদ্ধ এই সব খাদ্যসামগ্রীর জন্য ভিন রাজ্যের উপর আর বিশেষ নির্ভর করতে হয় না বাংলাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি জানিয়েছেন, ডিম উৎপাদনে রাজ্য স্বয়ম্ভর হতে চলেছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আশা, নতুন ছাগল নীতি কার্যকর হলে পাঁঠার মাংসের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনই অন্য রাজ্যের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। 


    ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল গোট ব্রিডিং পলিসি’ নিয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বিবেক কুমার সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের চিঠি দিয়েছেন। এই আধিকারিকদের মধ্যে হরিণঘাটা সহ বিভিন্ন সরকারি পশু ফার্মের কর্তারা আছেন। ছাগলের জন্য পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিশেষ খামার রয়েছে। নতুন নীতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা জানানো হয়েছে এই চিঠিতে।


    নতুন নীতিতে রাজ্যে যে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট’ আছে, তার উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জাতের ছাগলের তুলনায় ব্ল্যাক গোটের মাংস সুস্বাদু। এই জাতের পাঁঠা বা ছাগলের চামড়া উন্নতমানের। এর প্রতিপালনের খরচও তুলনামূলক কম। এদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বেশি হয়।


    রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যে গবাদি প্রাণিশুমারি হয়েছিল, তাতে ছাগলের সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গ দেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সেই সময় ১.৬০ কোটিরও বেশি ছাগল ছিল রাজ্যে। যা দেশের মোট ছাগলের ১০.৯৩ শতাংশ। রাজ্যে প্রায় ৩১ লক্ষ বাড়িতে ছাগল প্রতিপালন করা হয়। ২০২২-’২৩ আর্থিক বছরে রাজ্যে প্রায় ৪৩০ টন মাংস উৎপাদন হয়েছে। 


    প্রাণিসম্পদ দপ্তর মনে করছে, রাজ্যে ছাগল পালন সংগঠিতভাবে করার সুযোগ রয়েছে। ক্রস ব্রিডিং সহ ছাগল প্রজনন ও প্রতিপালন প্রক্রিয়া কীভাবে করা যেতে পারে, তা বিশদে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। রাজ্যের নতুন নীতি ঠিকভাবে কার্যকর হলে গ্রামের মানুষের আয় অনেকটাই বাড়বে বলে ধারণা রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের নেতা মনোজ চক্রবর্তীর।
  • Link to this news (বর্তমান)