মৃত্যুকালীন জবানবন্দি যাতে না দিতে পারেন, সেটাই উদ্দেশ্য ছিল ধৃতদের
বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিন ঘণ্টা ধরে চলল নিগ্রহ। নিগৃহীত যুবকের যখন মরণাপন্ন অবস্থা, তখনই তাঁকে ছাড়া হল। অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য ছিল, ওই যুবক যাতে তাঁর বক্তব্য পুলিস ও চিকিৎসকদের কাছে ভালোভাবে বলতে না পারেন। অর্থাৎ ওই যুবক যাতে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ঠিকমতো না দিতে পারেন। এর থেকে পরিষ্কার, অভিযুক্তদের অভিসন্ধি ভালো ছিল না। মুচিপাড়ায় হস্টেলে গণপিটুনিতে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলি বৃহস্পতিবার এমনই সওয়াল করেন। তিনি বলেন, পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, এই ঘটনায় এখনও কয়েকজন ফেরার। তাদের খোঁজ চলছে। ঘটনাস্থল ও তার আশপাশ থেকে বেশ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে। তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ধৃতদের তরফে আইনজীবীরা এদিন আদালতে প্রশ্ন তোলেন, পুলিস এই ঘটনায় যে সমস্ত বক্তব্য কোর্টের কাছে পেশ করছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা। এই ঘটনায় নতুন করে তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। তাই যে কোনও শর্তে আমাদের মক্কেলদের জামিন দেওয়া হোক। যদিও সরকার পক্ষ থেকে তার জোরালো আপত্তি জানানো হয়। সরকারি কৌঁসুলি বলেন, তদন্তের স্বার্থেই ধৃতদের ফের পুলিস হেফাজতে নেওয়াটা প্রয়োজন। বিচারক মামলার কেস‑ডায়েরি খতিয়ে দেখে ১৪ অভিযুক্তকে ফের ১০ জুলাই পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
এদিন কয়েকজন অভিযুক্ত আদালতে বলেন, তাঁদের যেন পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে। এদিকে, এদিন কোর্ট চত্বরে দেখা যায়, কয়েকজন ধৃতের মা‑বাবাকে কান্নাকাটি করতে। শুনানির শেষে তাঁরা তাঁদের ছেলেকে পুলিসের গাড়িতে ওঠার সময় কথা বলতে যান। যদিও পুলিসের নিরাপত্তায় তা সম্ভব হয়নি। এক ধৃতের আত্মীয় কোর্ট চত্বরে বসে আক্ষেপ করে বলেন, ছেলেটা কলকাতায় এল পড়াশোনা করতে, কিন্তু কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল, এখনও বুঝতে পারছি না। -নিজস্ব চিত্র