উনসানিতে আন্ডারপাসে কোমর সমান জল কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট, ভোগান্তি
বর্তমান | ০৫ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফের একই রোগে জর্জরিত উনসানি আন্ডারপাস। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে গরফা মোড়ে এই আন্ডারপাস এখন জলে টইটম্বুর। তাই বুধবার থেকেই এই পথ দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমমুখী লেন দিয়ে দ্বিমুখী যান চলছে এই রাস্তায়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে, ব্যাপক যানজটে নাস্তানাবুদ এই জাতীয় সড়কের যাত্রীরা। জানা গিয়েছে, হাওড়া পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়পা শীতলাতলার সমস্ত জল আন্ডারপাসে এসে জমা হয়েছে। যেকারণে প্রায় কোমর সমান জলে পরিপূর্ণ এই আন্ডারপাস।
উনসানি এলাকায় কোনা এক্সপ্রেসওয়ে বোতলের মুখের মতো সঙ্কীর্ণ হওয়ায় আগে ব্যাপক যানজট হতো। যেকারণে রাস্তাটি চওড়া করার কাজে হাত দেয় রাজ্য সরকার। মূল এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বেইলি ব্রিজ ও একটি আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছিল গাড়ির গতি বাড়াতে। গত বর্ষাতেই দেখা গিয়েছে, ওই আন্ডারপাস কার্যত ডুবে গিয়েছিল এবং সেই জল দীর্ঘদিন জমে ছিল। ফলে কলকাতামুখী গাড়িগুলিকে আগের মতো মূল কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরেই আসতে হয়েছে।
গতবারের মতো সমস্যা দেখা গিয়েছে এই বছরেও। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আন্ডারপাসে যে পরিমাণ জল জমেছে, তা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নামানো যায়নি। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ একাধিক পাম্প চালিয়ে ওই জল বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, জমা জলের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, টানা পাম্প চালিয়েও অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। উল্টে একাধিক পাম্প বিকল হয়ে গিয়েছে।
কেন এত জল? কোথা থেকে তা আসছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কাঠগড়ায় সেই হাওড়া পুরসভা। দেখা গিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন হাওড়া পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের জলই জাতীয় সড়কের একাংশ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। গড়পা শীতলাতলা এলাকায় কোনও নিকাশি ব্যবস্থাই কার্যত নেই। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই ওই এলাকার জল নেমে আসে ওই আন্ডারপাসে। ফলে রাস্তায় কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে যায়।
এই জমা জলের কারণে কলকাতামুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উনসানিতে একটি লেন দিয়েই যানবাহন আপ-ডাউন করছে। যেকারণে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে ফের যানজট শুরু হয়েছে। এ নিয়ে কার্যত বিরক্ত গাড়ির চালকরা। রাজেন্দ্রকুমার নামে এক বাসচালক বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে আন্ডারপাস তৈরি করলেও তার এই হাল হয়েছে। প্রতিদিন হাইরোডের মোড় থেকে সাঁতরাগাছি পৌঁছতে সময় লাগছে আধঘণ্টা। পুলিস নিরুপায়। এ নিয়ে পুলিসের এক কর্তা বলেন, শুধু বৃষ্টির জল আন্ডারপাসে জমলে তা ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে বেরিয়ে যায়। কিন্তু পাশের এলাকার জল এসে এখানে জমে রয়েছে। এত জল টানতে পারছে না নিকাশি নালাগুলি।
হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে আশপাশের পঞ্চায়েতগুলি থেকে জল এসে ওই ওয়ার্ডে জমে থাকছে। যেহেতু আন্ডারপাসটি লোল্যান্ডে, তাই জল বের করতে একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরাও হাওড়া পুরসভার তরফে অতিরিক্ত পাম্পের ব্যবস্থা করেছি, যাতে দ্রুত ওই জল বের করে রাস্তাটি স্বাভাবিক করা যায়।