নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত শহরে হকার সমস্যা মেটাতে বৃহস্পতিবার পথে নামল প্রশাসন। এদিন পুলিস, মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে ১২ নম্বর রেল গেটের ব্রিজের নীচের ফুটপাতে টানা হল ‘লক্ষ্মণ গণ্ডি’। পুরসভার টেনে দেওয়া এই গণ্ডি বা ‘মার্কিং’-এর বাইরে কোনও হকার ব্যবসা করতে পারবেন না বলেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এদিন।
বারাসত শহরের কেএনসি রোড থেকে কেপি বসু রোড, চাঁপাডালি মোড় সহ জেলা পরিষদের সামনে হকার সমস্যা দীর্ঘদিনের। সব থেকে সমস্যা হয়েছিল ১২ নম্বর ব্রিজের নীচের অংশে সরকারি রাস্তা দখল করে হকারদের রমরমা ব্যবসা। কলোনি মোড় থেকে ১২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত শতাধিক হকার ব্যবসা করেন। শহরের বাসিন্দাদের পায়ে হাঁটার রাস্তাও দখল করে চলে ব্যবসা। হকারদের পাশাপাশি অনেক স্থায়ী দোকানদারও পসরা ফুটপাতে নিয়ে এসে ব্যবসা করতেন। পুজো ও চৈত্র সেলের সময় ব্রিজের নীচের অংশ দিয়ে হাঁটাচলাই দায় হয় বাসিন্দাদের পক্ষে।
ব্রিজের দুই পাশেই বহু জনবসতি রয়েছে। হকারদের দাপটে ব্রিজের নীচের অংশের ফুটপাত এতটাই অপ্রশস্ত হয়ে পড়ে যে কোনও দোকান বা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও দমকল ঢুকতে পারবে না। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতেও সমস্যা হতো। গত পুরসভা নির্বাচনেও হকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শাসকদল। কিন্তু সেটা কার্যকর করতে পারেনি। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরেই ফের এনিয়ে তৎপর হয়েছে পুরসভা। এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, কলোনি মোড় থেকে ১২ নম্বর রেল গেট পর্যন্ত ব্রিজের নীচে ১৬ ফুট রাস্তা মানুষের পথচলার জন্য মার্কিং করা হয়েছে। মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্যই এই ভাবনা।