• এখনও ভক্তদের মুখে মুখে ঘোরে কুলটির মানিকেশ্বর ধামে পিতলের রথ চুরি
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলটি: রানিগঞ্জ থেকে বরাকর-বহু প্রাচীন রথযাত্রার ইতিহাসে সমৃদ্ধ আসানসোল শিল্পাঞ্চল। এই শিল্পাঞ্চলের বুকেই লুকিয়ে রয়েছে এক রোমহর্ষক রথ লুঠের কাহিনী। খনি শিল্পাঞ্চল ঘেরা আসানসোল মহকুমাজুড়ে বহুকাল ধরেই লুটেরাদের বাড়বাড়ন্ত রয়েছে। লোহা, কয়লা চুরির পাশাপাশি এখানে আস্ত রথ চুরির ঘটনাও ঘটেছিল।


    ১৯৮০ সালে কুলটির মানিকেশ্বর ধামে ৫ কুইন্টাল ওজনের রথ চুরি হয়। মন্দিরের সেবাইতরা জানান, দামোদর নদের চরে এক প্রান্তে ভু‌ইফোঁড় মহাদেব মানিকেশ্বরের ধাম। সেখানেই থাকত জগন্নাথের রথ। চোরেরা রথ টেনে পাশের এক পুকুরে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে রথ লুকিয়ে রেখে কেটে কেটে পাচার করা হচ্ছিল। যখন বিষয়টি জানাজানি হয়, তখন পুকুর থেকেই রথের নীচের অংশটি উদ্ধার হয়। কথিত আছে, ওই চুরির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তারা কিছুদিনের মধ্যেই প্রাণ হারায়।


    মানিকেশ্বর শিবের ধাম ঠিক কত পুরনো তা জানা নেই। বর্তমান সেবা‌ইতদের দাবি, সাধক রজনীকান্ত ব্রহ্মচারী এখানে মহাদেবের পুজো শুরু করেন। সেই সময় কাশীপুরের রাজা মহাদেবকে নিজের রাজমহলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তারপরই রাজা সাধককে মহাদেবের নামে বিপুল সম্পত্তি দান করেন। তারপর একে একে নানা দেবদেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা ও পুজো শুরু হয়। রজনীকান্ত ব্রহ্মচারী বেনারস থেকে ৫ কুইন্টালের বিশাল পিতলের রথ নিয়ে আসেন। তারপর থেকেই মহাসমারোহে মানিকেশ্বরের রথযাত্রা শুরু হয়। এসব কয়েক শতাব্দী আগেকার কথা। এখনও জুনুট, ভালাটি, মিঠানি, চিনাকুড়ি সহ আশপাশের নানা গ্রামের মানুষ এই রথ দেখতে ভিড় করেন।


    রজনীকান্ত ব্রহ্মচারীর কয়েক প্রজন্ম পর রামকরণ সিং বা মৌনী বাবা যখন এই ধামের প্রধান সাধক, তখন রথ চুরির ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। আশপাশের সমস্ত গ্রামের মানুষই বাবা মানিকেশ্বরের ভক্ত। তাই মানিকেশ্বরের সম্পত্তিতে যে হাত পড়বে, তা সাধকরা কল্পনাও করতে পারেননি। নির্জন স্থানেই রথ থাকত। সেবার রথ চুরির পর আর পিতলের রথ গড়া সম্ভব হয়নি। এখন টিনের রথেই মানিকেশ্বরের রথযাত্রা হয়। বহু মানুষ এই রথযাত্রা দেখতে ভিড় জমান। রথযাত্রা এলেই প্রায় ৫০বছর আগের চুরির কাহিনি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।


    মন্দিরের সেবাইত পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, আমাদের আর পিতলের রথ কেনার সামর্থ্য নেই। বিভিন্ন রথ উৎসবে টাকা বরাদ্দ হয়ে থাকে। আমরা সেভাবে সাহায্য পাইনি। বাবা মানিকেশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে টিনের রথেই জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে মাসির বাড়ি নিয়ে যাই।
  • Link to this news (বর্তমান)