নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের আবাসনে মায়ের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। খুনের পর থেকে পলাতক ছিল পুলিস ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে তার অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া থানা এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে প্রগতি কলেজের পাশের মাঠ থেকে অভিযুক্ত শোভনলাল শীলের দেহের পাশে একটি কেরোসিনের ড্রাম পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি কমিশনার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর।
মাটিগাড়া থানার পুলিস দেহ উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
বালুরঘাট থানায় ওই যুবকের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। গত শনিবার সকাল থেকেই সে নিখোঁজ। ঘটনার পাঁচদিন পর মূল অভিযুক্তর দেহ উদ্ধার ঘিরে তদন্তে নয়া মোড়। ওই যুবক মাকে খুন করেছিল কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট হয়নি। ফলে নতুন করে তদন্ত শুরু করছে পুলিস।
মৃত যুবকের মামা পরিতোষ শীল বলেন, ঘটনার পর থেকে আমার ভাগ্নে পলাতক ছিল। আমাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। গতকাল রাতে শোভনকে হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইন দেখতে পাই। তখনই ওকে ফোন করে জিজ্ঞেস করি, কোথায় আছে। ও বলেছিল বালুরঘাটেই আছি। আমি থানায় আত্মসমর্পণ করার পরামর্শ দিতেই ফোন কেটে দেয়। ওই নম্বর থেকেই মাটিগাড়া থানা থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর আসে।
পুলিস সূত্রে খবব, শোভনলাল শীল ২০২১ সালে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের কনস্টেবল হিসেবে কাজে যোগ দেয়। সেখানে ওয়ার্ডেন হিসেবে কাজ করত। মায়ের নাম কল্পনা রানী শীল (৪৭)। আদিবাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলার কামাখ্যাগুড়িতে। শোভনলাল মায়ের সঙ্গেই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের আবাসনে থাকত। মায়ের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর গত শনিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল শোভন। বাবা সুবীরচন্দ্র শীল ছেলের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে কী কারণে এই খুন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পরিবার ও পুলিস সূত্রে খবর, একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শোভনের। যা নিয়ে আপত্তি ছিল মায়ের। তাই তাঁকে খুন করা হয়েছিল।
তবে, অগ্নিদগ্ধ ও আধপোড়া অবস্থায় শোভনলালের দেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নয়া মোড় এসেছে। পরিবারের তরফেও অভিযোগ ছিল, খুনের ঘটনায় অন্য কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মা ও ছেলের মৃত্যুতে ফের নতুন করে তদন্তে নামছে পুলিস।
বালুরঘাট সদর ডিএসপি হেডকোয়ার্টার বিক্রম প্রসাদ বলেন, আবাসনে মায়ের দেহ উদ্ধারের পর পলাতক ছিল অভিযুক্ত ছেলে। তার দেহ উদ্ধার হয়েছে মাটিগাড়া থানা এলাকায়। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।