• সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনেই বেশি জোর দিচ্ছে ডিভিসি
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী দিনে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)। উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করা হয়েছে তাতে সৌর বিদ্যুতের পরিমাণ বেশি। ডিভিসির চেয়ারম্যান এস সুরেশ কুমার সহ সংস্থার শীর্ষ কর্তারা বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে আগামী দিনের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ২০৩০ সালের মধ্যে ডিভিসি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৭২০ মেগাওয়াট বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে হবে ৩৯২৩ মেগাওয়াট। এখন ডিভিসি মাত্র ১৪ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সেখানে এখন তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৬৭০০ মেগাওয়াট। ডিভিসির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৪৭ মেগাওয়াট। আগামী দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংস্থা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এর মধ্যে সৌর বিদ্যুতে বিনিয়োগ করা হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। ডিভিসি কর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে তিনটি নতুন তাপবিদ্যুৎ ইউনিট তৈরি করা হবে। এর মধ্যে দুর্গাপুরে ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট ও রঘুনাথপুরে  প্রতিটি ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদনের দুটি ইউনিট হবে। 


    ডিভিসির মাইথন, পাঞ্চেত, তিলাইয়া ও কোনারে যে বাঁধ ও জলাধার রয়েছে সেখানেই  মূলত আগামী দিনের বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি গড়ে উঠবে। জল ও জমির উপর সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্যানেল বসানো হবে। ইতিমধ্যে ৩৪৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। দু’বছরের মধ্যে তা শেষ হবে বলে কর্তৃপক্ষের আশা। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিভিসি যৌথ উদ্যোগের বিশেষ সংস্থা গঠন করছে। তিলাইয়া ও পাঞ্চেতে মোট ৭৫৫ মেগাওয়াটের  দুটি সৌর বিদ্যুৎ পার্ক তৈরি করবে ওই সংস্থা। 


    ডিভিসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দুটি বড় পাম্প স্টোরেজ বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে জল উপরে তুলতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সুযোগ আছে। মোট ২৫০০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি পাম্প স্টোরেজ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঞ্চেতে এক হাজার ও ঝাড়খণ্ডের লুগু পাহাড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের এই দুটি প্রকল্প করা হবে। পাঞ্চেতের প্রকল্পটি করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদন চেয়েছে ডিভিসি। ওইসঙ্গে ঝাড়খণ্ড সরকারের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)