• সারদার চার্জশিটে চিদম্বরম-স্ত্রীর নাম ১১ বছর পর কেন, ইডিকে তোপ আদালতের
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারদা চিটফান্ড মামলায় ইউপিএ জমানার প্রাক্তন মন্ত্রী পি চিদম্বরমের স্ত্রী তথা আইনজীবী নলিনী চিদম্বরমের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে ১ হাজার ১০০ পাতার যে নথি জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি, তাতে তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট রয়েছে ৬৫ পৃষ্ঠার। তাতেই ইডির দাবি, সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়েছিলেন নলিনী। এজেন্সি এই দাবি করলেও তদন্ত শুরুর ১১ বছর পর কেন পেশায় একজন আইনজীবী তথা ট্যাক্স কনসালট্যান্টের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হল, এই প্রশ্ন তুলে ইডিকে ভর্ৎসনা করেন বিচারক প্রশান্ত মুখোপাধ্যায়। এতদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সি কী করছিল? এই জিজ্ঞাস্যও ছিল তাঁর। কীভাবে নলিনী চিদম্বরম এই ‘স্ক্যাম’-এর সঙ্গে যুক্ত, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন বিচারক। ইডির ভূমিকা যে যথাযথ নয়, আদালত কক্ষে তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারক। এই পর্বেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে বিচারক জানিয়ে দেন, তথ্য দিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তবেই তিনি এই চার্জশিটে ‘কগনিজেন্স’ (বিচারাধিকার পাওয়ার যোগ্য) নেবেন। নোটিস দিয়ে ডাকবেন নলিনী চিদম্বরমকে। আগামী ১৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। 


    কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য পি চিদম্বরমের স্ত্রী নলিনীদেবী সারদাগোষ্ঠীর আইনি পরামর্শদাতা ছিলেন। বিগত লোকসভা নির্বাচন পর্বে মোদি-বিরোধী প্রচারে কংগ্রেসের যে ক’জন প্রবীণ নেতা সমাজমাধ্যম সহ পত্রপত্রিকার লেখনিতে সবথেকে বেশি সরব ছিলেন, তাঁদের মধ্যে পি চিদম্বরম অন্যতম। একদিকে বাংলায় ভরাডুবি, অন্যদিকে সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেসের ফিরে আসার ঘটনায় ক্ষিপ্ত গেরুয়া শিবির আরও একবার ‘এজেন্সি নির্ভরতা’র পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। ১১ বছরের পুরনো মামলায় নলিনী চিদম্বরমের বিরুদ্ধে ইডি’র চার্জশিট তারই প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সারদা মামলায় মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তাতে তাঁর কাছ থেকে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা টাকা নিয়েছেন বলে রীতিমতো নাম উল্লেখ করে জানিয়ে ছিলেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআই কী ব্যবস্থা নিয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।    


    আদালত কক্ষে ইডির আইনজীবীকে বিচারক বলেন, ‘আপনি এমন একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছেন, যিনি পেশায় ট্যাক্স কনসালট্যান্ট। ক্লায়েন্টের থেকে তিনি ফি নিতেই পারেন। কীভাবে তিনি এই স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত? আমাকে দেখান। কোনও আইনজীবী যদি কারও হয়ে মামলা লড়েন, তাহলে তিনি সুবিধাভোগী? যদি উনি (নলিনী চিদম্বরম) কনসালটেন্সি নিয়ে থাকেন, সেটা তো আয়কর দপ্তর দেখবে! 


    ভর্ৎসনা পর্বে বিব্রত ইডিকে বিচারকের প্রশ্ন ছিল, ‘একজন ক্রিমিনাল টাকা লুট করল, তা থেকে আইনজীবীর ফি দিল, তাহলে কি আইনজীবী অভিযুক্ত হয়ে যাবেন? আপনারা চার্জশিট জমা দিলেন। আমি দেখব।’
  • Link to this news (বর্তমান)