জলমগ্ন রাজার শহর কোচবিহার, নদী ভাঙনে বিপদে একাধিক গ্রাম
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটার মধ্যে টানা বৃষ্টি। তাতে জলমগ্ন রাজার শহর কোচবিহার। জল জমে পুকুরের রূপ নিয়েছে অলিগলি। শনিবার সকাল থেকে এই দৃশ্যই দেখা গেল কোচবিহারে। রাজবাড়ির সামনের রাস্তা, মিনি বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন পোস্টঅফিস পাড়া সহ একাধিক রাস্তায় জল জমে যায়। তোর্সার ফাঁসিরঘাটের বাঁধের কাছে জল পৌঁছে যায়। ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহার সদরে ১২৫.৬০, তুফানগঞ্জে ১৬৪.৪০, মাথাভাঙায় ১১৩.২০, দিনহাটা ৩২.২০, মেখলিগঞ্জে ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার জেরে জেলাজুড়ে এই দশা।
পুরচেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, একটানা বৃষ্টি হয়েছে। ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কিছুটা জল জমেছে। মাস্টার প্ল্যানের কাজ না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হওয়া কঠিন।
নদী ভাঙনে বিপদের মুখে একাধিক গ্রাম। মাথাভাঙা-২ ব্লকের তেকুনিয়া বনাঞ্চলের একটি অংশ মানসাইয়ের ভাঙনে তলিয়ে যাওয়ার দশা। বনাঞ্চল সংলগ্ন ভোজনেরছড়া সহ চকিয়ারছড়া এলাকার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চাষের জমিতে জল ঢুকছে। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের নাটাবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জায়গীর চিলাখানার উত্তর সাহাপাড়ায় গদাধর নদীর ভাঙনে রাস্তার উপর দিয়ে জল বইছে। আটকে পড়ে একশোর বেশি পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক সাহা, বিবেকানন্দ সাহা বলেন, অনেককেই আশেপাশের স্কুলে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এখানে জলনিস্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট প্রয়োজন। তুফানগঞ্জ-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্মলেন্দু সরকার বলেন, দাবিটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।
দুপুর অবধি দিনহাটার অসংরক্ষিত এলাকায় সিঙিমারি নদীতে হলুদ সংকেত ছিল। দিনহাটা-১ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বহু কৃষিজমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। শ্রীলঙ্কা গ্রামের বাসিন্দারাও নদী পেরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। গীতালদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দরিবস ও জারি ধরলার একাধিক জায়গা ভাঙনের কবলে পড়েছে।