ডিআইজির মিথ্যা মামলায় ক্রিমিনাল হয়েছি, দাবি গ্যাংস্টার সুবোধ সিংয়ের
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ন্যাশনাল ডিফেন্স আকাদেমির (এনডিএ) লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে ‘দাবি’ করা সুবোধ সিং এখন সিআইডি কর্তাদের কুখ্যাত গ্যাংস্টার হয়ে ওঠার ‘গল্প’ শোনাচ্ছে। বিহার বোর্ড থেকে মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী এই ছাত্রের কথায়, এক ডিআইজি’র ‘কলকাঠি’তে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি তাকে এই পথে টেনে এনেছে। এই পরিস্থিতির জন্য তাকে নিয়ে বিহারের দুই পুলিস কর্তার দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনেছে, দেশ জুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সোনা লুটের ‘জুয়েল থিফ’।
সুবোধ এখন সিআইডি হেফাজতে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তৈরি হয়েছে তিনটি বিশেষ টিম। প্রশ্ন কর্তাদের সামনে সে এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে, যেন মনে হচ্ছে, তদন্তকারী অফিসারই বুঝি গ্যাংস্টার, তাঁকে জেরা করছে সুবোধ। বুদ্ধিমান এই মাফিয়া কথাবার্তায় বারবার বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করে কোনও লাভ নেই। তদন্তকারীদের কথায়, ঠান্ডা মাথার সুবোধ ভালো করে জানে, বেউরের কীর্তিকলাপ স্বীকার করলে জেল সুপার ও সেখানকার শীর্ষ কর্তাদের বিপদ বাড়বে। তাই বারবার এড়িয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্ন। সেই কারণে মূল বিষয় থেকে তদন্তকারীদের ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। নিজে কতটা মেধাবী, তুলে ধরতে তদন্তকারীদের সামনে সুবোধের প্রথম দাবি ছিল, ১৯৯৮ সালে বিহার বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে গোটা রাজ্যে দ্বিতীয় হয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিকেও ভালো ফল করেছিল। এখানেই থেমে থাকেনি গ্যাংস্টার। সিআইডি’র তদন্তকারীদের সুবোধ সিং জানায়, ন্যাশনাল ডিফেন্স আকাদেমির লিখিত পরীক্ষাতেও সে সাফল্য পেয়েছিল। তবে ইন্টারভিউ পর্বে আটকে যায় এনডিএ’তে ঢোকার ছাড়পত্র।
কৃতি এই ছাত্র নিজেকে প্রতিষ্ঠিত না করে কেন অপরাধের জগতে ঢুকল? জুয়েল থিফের দাবি, এনডিএ’তে যোগ দিতে না পেরে তার মন ভাঙে। ওই সময় সে বিহারের এক পুলিস কর্তার সংস্পর্শে আসে। ওই কর্তা তাকে বোঝায় পুলিসে কাজ করলে নাম কেনা যাবে। কিন্তু ছোটখাট পুলিস অফিসার হওয়ার ইচ্ছা তার ছিল না। বরং ওই পর্বে এসপি পদমর্যাদার ওই পুলিস কর্তার ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতে শুরু করে সুবোধ। ভালো টাকার লোভে রাজিও হয় সে। সুবোধের দাবি, বিভিন্ন অপরাধী গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তার স্বীকারোক্তি, এই পর্বে পুলিসের প্রভাব খাটিয়ে ‘তোলাবাজিও’ শুরু করেছিল সে। বিষয়টি নিয়ে ওই পুলিস কর্তার
সঙ্গে তাঁর ‘ইমিডিয়েট বস’ এক ডিআইজি’র বিরোধ শুরু হয়। গ্যাংস্টারের দাবি, ওই ডিআইজি তাকে পছন্দ করতেন না। এই নিয়ে দুই পুলিস কর্তার বিরোধ তীব্র হয়। গ্যাংস্টার তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ‘স্নেহাশ্রয়ে’ রাখা এসপি পদ মর্যাদার ওই পুলিস কর্তা তাকে দূরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারই মাঝে ওই ডিআইজি স্থানীয় থানাকে নির্দেশ দিয়ে, লুট আর তোলাবাজি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করান। গ্যাংস্টার দাবি করেছে, অপরাধের রাস্তায় হাঁটা তার লক্ষ্য ছিল না। মিথ্যা মামলায় জেলে যাওয়ার ঘটনার বদলা নিতে সেটাই তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে। ঠিক করে, বড় অপরাধী হবে। পুলিসের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে।