শ্রীচৈতন্যদেবের হাত ধরে সূচনা, মহাপ্রভুতলায় সাড়ম্বরে পালিত হয় রথ
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: শ্রীচৈতন্যদেব সন্ন্যাস নেওয়ার পর নীলাচলে গমন করেন। আদি গঙ্গা দিয়ে নৌকা করে বারুইপুর হয়ে যাচ্ছিলেন। পথে আঁটিসারা মহাপ্রভু তলায় শিষ্য অনন্ত আচার্যের গৃহে আসেন। তিনদিন ছিলেন। রথ উৎসবের সূচনাও করেন। এ তথ্য জানালেন, মহাপ্রভু তলার বর্তমান প্রধান নিত্যানন্দ দাস বাবাজি। ৫০০ বছরের সে রথ উৎসব আজও সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। এখনও রথের দিন মহাপ্রভু তলায় খিচুড়ি ভোগ খেতে হাজির হন দূরদূরান্তের মানুষ। রবিবার রথ উৎসব পালিত হচ্ছে রাজ্যজুড়ে। জোরদার প্রস্তুতি চলছে বারুইপুরের আট নম্বর ওয়ার্ডের মহাপ্রভু তলাতেও। রথ সাজানোর কাজ শেষ। এবার উৎসব শুরুর প্রস্তুতি চলছে। কয়েক হাজার মানুষ আজ আসবেন অংশ নিতে। মহাপ্রভু মন্দিরে এখনও রয়েছে শ্রীচৈতন্যদেবের পাদুকা। মহাপ্রভুর পুজো নিত্য হয় এখানে। শ্রীচৈতন্য থাকাকালীন তাঁর নির্দেশে তৈরি হয়েছিল গৌর ও নিতাইয়ের মূর্তিও।
মহাপ্রভু তলায় রথের রশি টানতে ভিড় জমান কয়েক হাজার মানুষ। মন্দিরের প্রধান নিত্যানন্দ দাস বাবাজী বলেন, যখন চৈতন্যদেব এখানে আসেন তখন অনন্ত আচার্যের গৃহ ছিল তালপাতায় ছাওয়া কুটির। তারপর খড়ের ঘর হয়। সেখান থেকে কালে কালে উন্নতি হয়েছে মন্দিরের। এখনও পরম্পরা মেনে উৎসব হচ্ছে। এখন পুরাতন বাজার মোড় থেকে রথ বের হয়। পরিক্রমা শেষ হয় ভট্টাচার্য পাড়ায়। সেখানে হরিনাম সংকীর্তন। নিত্য সেবায় নিযুক্ত জনা তিরিশেক সেবাইত দায়িত্ব সামলান। ভট্টাচার্য পাড়ায় মাসির বাড়িতে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে ন’দিন ধরে ৫৬ ভোগ দেওয়া হয়। শুক্তো, ডাল, মালপোয়া, রাজভোগ, পোলাও, রসগোল্লা থাকে ভোগে। উল্টো রথের দিনও কয়েক হাজার মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হয়। আগে ভট্টাচার্য পাড়ার বাসিন্দা শিবনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি ছিল জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার মাসির বাড়ি। সেখানে নিত্য পুজোর পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হতো।