• নন্দকুমারের ‘চিৎপুরে’ আনাগোনা বাড়ছে, যাত্রার সুদিন ফিরছে?
    বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: রথ আর যাত্রা যেন একে অপরের পরিপূরক। রথ উপলক্ষ্যে বুকিং অফিস সাজিয়ে গুছিয়ে নতুন নতুন পালার বিজ্ঞাপন, হালখাতা গোছের অনুষ্ঠান আর বুকিং লক্ষ্য করা যায়। পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এবার কোন পালা নিয়ে এলেন তারই খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। মিনি-চিৎপুর নন্দকুমারে প্রতিটি গদিঘরে এখন সেই ব্যস্ততা তুঙ্গে। ২০২০-’২২পর্যন্ত মহামারীর ধাক্কায় রথযাত্রা দিনে গদিঘরে এই পরিচিত দৃশ্যটা উধাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, গত বছর থেকেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। রথযাত্রার পুণ্যতিথিতে যাত্রা বুকিং অফিসে যাত্রামোদী মানুষের ভিড় শুরু হয়। যাত্রাপালা নিয়ে মানুষের উন্মাদনা আবারও আগের মতো ফিরে আসছে বলে মনে করছেন যাত্রার কলাকুশীরাও।


    পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার হাইরোড মোড়ে প্রায় ২৫টি গদিঘর বা যাত্রার বুকিং অফিস। দক্ষিণবঙ্গের চিৎপুর বললেও অত্যুক্তি হয় না। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে নতুন নতুন পালার বিজ্ঞাপনী হোডিং ঝুলছে। রথযাত্রার দিন কয়েকজন বুকিং এজেন্ট অফিসে কলাকুশলীদের হাজির করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নন্দকুমারের এই গদিঘর থেকে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাদলের বুকিং করা যায়। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি জেলা থেকে উদ্যোক্তারা যাত্রাপালা বুকিং করতে নন্দকুমারে আসেন। সেইমতো সেজে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ গদিঘর।  


    নন্দকুমার হাইরোডে ২২বছর ধরে যাত্রাপালার বুকিং অফিস চালাচ্ছেন অক্ষয় মাইতি। রথের আগে মিস্ত্রি লাগিয়ে দোকানঘরটিকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। সাফসুতরো করে দেওয়ালে নতুন পোস্টার লাগিয়ে আলপিন দিয়ে সাঁটানো হচ্ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই অক্ষয়বাবু আশাবাদী, এবার রথযাত্রায় ভালো বায়না হবে। কেউ কেউ ডিসকাউন্টের অফার রাখছেন। রথাযাত্রার পুণ্যতিথিতে বুকিং করার অর্থ, সংশ্লিষ্ট এলাকার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কেউ একই পালার বুকিং করতে পারবেন না। অক্ষয়বাবু বলেন, করোনা মহামারীতে আমরা শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে কাটিয়েছি। যাত্রাপালার সঙ্গে শুধু অভিনেতা অভিনেত্রীরাই নন, বাদ্যশিল্পীল মেকআপ ম্যান, হেয়ার ড্রেসার, ডেকোরেটর সহ আরও অনেকের রুজিরুটি জড়িয়ে। গত বছর থেকে পালা বুকিং করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। যাত্রা এবং অর্কেষ্ট্রা মিলে আমরা সাড়ে সাতশো প্রোগ্রামের বুকিং পেয়েছি। যা এককথায় রেকর্ড। এবারও রথযাত্রার আগে নতুন পালা নিয়ে উৎসাহী অনেক ফোন পেয়েছি। আশাকরি, রথযাত্রায় ভালো বুকিং হবে।


    দু’দশকের বেশি সময় নন্দকুমার গদিঘরের সঙ্গে যুক্ত ভীমচরণ দাস। অনল-কাকলি জুটি সহ কলকাতার নামীদামি বহু অপেরার ক্যাটালগ তাঁর টেবিলে  জড়ো করে রাখা হয়েছে। বেলদা, ঘাটাল এবং কলকাতার প্রায় দু’শো যাত্রাপালার বুকিং এখান থেকেই করা যায়। ভীমচরণবাবু বলেন, নানাকারণে সিনেমাশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাতে হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন চলে আসায় সিনেমা হল বিমুখ হয়েছেন অনেকেই। টিভি সিরিয়ালের একঘেয়েমি কাটাতে শীতের সন্ধ্যায় লাইন দিয়ে মানুষ প্যান্ডেলে যাত্রাপালা দেখতে যাচ্ছেন। গ্রামবাংলায় যাত্রার একটা কালচার তৈরি করে দিয়েছেন পালাকার শম্ভু বাগ, ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়েরা। মানুষের জীবনে বিনোদনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল এই যাত্রাপালা। তাছাড়া, অর্কেষ্ট্রা, হাঙ্গামার মতো অনুষ্ঠান ঘিরে অনেক সময় ঝামেলা হয়। কিন্তু, যাত্রাপালা এদিক থেকে ব্যতিক্রমী। 
  • Link to this news (বর্তমান)