বেলপাহাড়ীতে কানাইসোর পাহাড় পুজো ঘিরে মেলায় লক্ষাধিক মানুষ
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বেলপাহাড়ী: বেলপাহাড়ীর কানাইসোর পাহাড় পুজো ঘিরে লক্ষাধিক মানুষ উৎসবে মেতে উঠলেন। আর এই উৎসব দেখতে পর্যটকরাও ভিড় জমালেন।
এদিন পাহাড়পুজো উপলক্ষ্যে মেলায় চার হাজারের বেশি স্টল ছিল। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি বিক্রেতারা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রাজ্য থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ এসে এই পুজোয় অংশ নেন।
বেলপাহাড়ীর এসডিপিও শ্রেয়া সরকার বলেন, মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কানাইসোর এই এলাকার অন্যতম উঁচু পাহাড়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের তৃতীয় শনিবার আদিবাসী সমাজের মানুষ এই পাহাড় পুজো করেন। পুজো কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় গোয়ালা বলেন, বেলা বাড়তে থাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের ঢল নেমেছে। প্রচুর পর্যটক এসেছেন। রীতিনীতি মেনে পুজো হয়েছে। এবছর রেকর্ড ভিড় হয়েছে। নিরাপত্তার ভালো ব্যবস্থা ছিল।
এদিন পাহাড়পুজো দেখতে এসেছিলেন হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক শ্যামলকান্তি দাস। তিনি বলেন, বহুবার বেলপাহাড়ী বেড়াতে এসেছি। কিন্তু এর আগে পাহাড়পুজো দেখা হয়নি। এবার তা দেখার সুযোগ পেলাম। দারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরছি। প্রচুর ছবি তুলেছি।
এই এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেন, কানাইসোর পাহাড়কে পুজো করলে চাষবাস ভালো হবে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহুকাল আগে কানাইসোর পাহাড়ের আশপাশের এলাকা প্রবল বন্যায় ভেসে গিয়েছিল। সেসময় দুর্যোগ থেকে বাঁচতে স্থানীয় এক গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামদেবতাকে এই পাহাড়ে প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে ওই গ্রামের মানুষ পাহাড়পুজোয় পৌরহিত্য করে আসছে। বেলপাহাড়ীর এই পাহাড়পুজোয় মুরগি ও পাঁঠা বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। পোড়ামাটির হাতির মূর্তি গড়ে পুজো করা হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শনি ও রবিবার মেলা বসবে। কানাইসোর পাহাড়ের অপরপ্রান্তে অর্থাৎ ঝাড়খণ্ডের দিকে রবিবার মানুষ ভিড় জমাবেন। দু’দিনের মেলায় কয়েক লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। সারা বছর ধরে মানুষ পাহাড় পুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।
এদিন মেলায় এসেছিলেন বেলপাহাড়ীর বাসিন্দা গোপাল মুড়া। তিনি বলেন, প্রতি বছর মেলা দেখতে আসি। আমরা প্রকৃতির পূজারি। নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করা হয়।