নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বয়স ৮১ বছর। কিন্তু কালনার কৃষ্ণদেবপুর গ্রামের ‘সোনার দিদিমণি’ অনিমা তালুকদার ‘বৃদ্ধা’ নন। সময়ের গতি যেন তাঁর কাছে থমকে গিয়েছে। তাঁর ফিটনেস অল্পবয়সিদেরও লজ্জায় ফেলে দেবে। একবার হাঁটতে শুরু করলে থামতেই চান না। অনেকেই মজা করে বলেন, তাঁর পায়ে চাকা লাগানো রয়েছে। ৪০মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা হাঁটতে পারেন। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ২৮টি সোনা এবং রুপোর মেডেল ছিনিয়ে এনেছেন। ১৮টি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন। সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে সেরা হয়েছেন। আগামী নভেম্বর মাসে আরও বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেইসব প্রতিযোগিতাতেও তিনি সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। একের পর এক স্বর্ণপদক পাওয়ায় তিনি পূর্ব বর্ধমানের সোনার দিদিমণি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এলাকার বাঁধাগাছি জুনিয়র হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা বলেন, আমার কাছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হল হাঁটা। এই বয়সেও কোনও অসুখ স্পর্শ করেনি। প্রেসার, সুগার কোনওকিছুই নেই। সুস্থ থাকতে সবারই হাঁটা উচিত। তবে হাঁটার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেটা মেনে চলতে হবে। হাঁটার পাশাপাশি দৌড় প্রতিযোগিতাতেও অংশগ্রহণ করি। ২০০মিটার দৌড় প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য পেয়েছি।
অবসরপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষিকার হাঁটার অভ্যাস অবশ্য বহুদিনের। অল্প বয়সে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা উন্নত ছিল না। তিনি কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেই স্কুলে যেতেন। স্বর্ণপদকজয়ী ওই প্রতিযোগী বলেন, অনেকদিনের অভ্যাস হওয়ায় হাঁটতে কষ্ট হয় না। একবার পা চলতে শুরু করলে আর থামতেই চায় না। তবে হাঁটার কৌশল রপ্ত করা উচিত। নিদিষ্ট নিয়মে পা ফেলতে হবে। পাশাপাশি সুস্থ থাকতে খাবারের দিকেও নজর রাখতে হবে। আমি প্রতিদিনই ছোলাসেদ্ধ ও ছানা খাই। ফ্যান- ভাত পছন্দের। কোনও কোনও দিন তিনবেলা ভাত খাই। কোনও দিনই ওষুধের প্রয়োজন হয়নি। তবে মাঝেমধ্যে ঠান্ডা লাগা বা জ্বর হলে ওষুধ খেতে হয়। গতির যুগে এখন ৪০ ছোঁয়ার আগেই অনেকেরই ওষুধ নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। চিকিৎসকের চেম্বারে যাতায়াতও অনেকের অভ্যাস হয়ে ওঠে। কিন্তু স্বর্ণজয়ী ওই দিদিমণি বলছেন, নিয়ম মেনে চললে অল্পবয়সিদের পাশাপাশি বৃদ্ধবৃদ্ধরাও সুস্থ থাকতে পারেন। কখনোই মনের জোর কমালে হবে না। হার মানব না এই মনোভাব নিয়ে এগতে হবে। সঙ্গে সুস্থ থাকতে নিয়ম করে হাঁটতে হবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আরতি খান বলেন, ওঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হই। ৮১ বছর বয়সেও তিনি যেন যুবতী। তাঁর গতির কাছে হার মানবে অল্পবয়সিরাও। তিনি নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছেন।