সংশোধনাগারে যুবকের মৃত্যু, বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া তমলুকের শেখ হোসেন আলির দেহ নিতে নারাজ পরিবার। তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এনিয়ে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ এবং পুলিসের দিকেই আঙুল তুলেছে পরিবার। শনিবার তমলুক থানার দক্ষিণ বাগুয়ান থেকে হোসেনের পরিবার তমলুক থানায় আসে। তারা থানায় দাঁড়িয়ে হোসনকে খুন করার অভিযোগ তোলে। এরপর ওই পরিবার আদালতে পৌঁছয়। আদালতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৃতের পরিবার। সংশোধনাগারে হোসেনের সেলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ময়নাতদন্ত এবং বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে যুবকের পরিবার।
শুক্রবার সকালে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় বিচারাধীন বন্দি শেখ হোসেন আলির দেহ উদ্ধার হয়। বাড়ি তমলুক থানার চনশ্বরপুর লাগোয়া দক্ষিণ বাগুয়ান গ্রামে। সকাল ১০টা নাগাদ বাড়িতে হোসেনের মৃত্যুর খবর পৌঁছয়। তারপরই খুনের অভিযোগে এককাট্টা ওই পরিবার। শুক্রবার দক্ষিণ বাগুয়ান গ্রামে তমলুক-পাঁশকুড়া সড়কে তিন ঘণ্টা অবরোধ করে ওই পরিবার। সন্ধ্যায় তমলুক থানার পুলিস গ্রামে গিয়ে এলাকা শান্ত করার চেষ্টা করে। জেল হেফাজতে থাকা তরতাজা যুবক কীভাবে মারা গেল সেই প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
শনিবার তমলুক থানায় যান মৃতের দাদা শেখ মহম্মদ আলম। তিনি বলেন, আমার ভাই এক ছাত্রীকে টিউশনি পড়াত। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ওই মেয়েটির পরিবার সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এরপর তারা দু’জনে ১০জুন পালিয়ে যায়। মেয়েটির পরিবার বিত্তশালী। হিমাচলপ্রদেশ থেকে তমলুক থানার পুলিস আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করে আনে। পাশাপাশি নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকেও উদ্ধার করে। ওই নাবালিকার পরিবার ভাইকে খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছিল। পুলিস এবং সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করে ভাইকে খুন করা হয়েছে। মৃতের কাকা নাসিম মল্লিক বলেন, ভাইপোকে তমলুক থেকে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার খবর আমাদের পরিবারকে জানানো হয়নি। আমাদের উকিলও জানতেন না। কেন গোপনীয়তায় তাকে এক সংশোধনাগার থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? হোসেন শিক্ষিত যুবক। এলাকায় প্রচুর টিউশনি করে। সে কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। এর পিছনে রহস্য রয়েছে। আমরা বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাই। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই যুবকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জেল হেফাজত হয়েছিল তার। ওই যুবক তমলুক উপসংশোধনাগারে ছিল। বৃহস্পতিবার তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।