জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে এসে বিক্ষোভের মুখে সাংসদ খগেন
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: শনিবার পুরাতন মালদহ পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে এসে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক গোপাল সাহা বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। ওয়ার্ডের মহিলারা বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের সামনে কার্যত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাও ছিলেন। তাঁরা সাংসদ এবং বিধায়কের সামনে ‘গো ব্যাক স্লোগান’ জুড়ে দেন। গান্ধী কলোনিতে শাসকদলের কর্মীদের সঙ্গে সাংসদ এবং বিধায়কের বচসাও হয়। এনিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
বিজেপির অভিযোগ, পুরসভার ব্যর্থতার জন্য শহরে জল জমছে। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি, বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা বছরে নির্দিষ্ট টাকা পান। তাঁদের কি কোনও কর্তব্য নেই?
জমা জল নিয়ে পুরসভার মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁরা জল নিষ্কাশন এবং আগামী দিনে বড় নিকাশিনালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন। ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃদুল ঘোষ বলেন, বৃষ্টি হলেই জল জমে থাকছে। দু’বারের সাংসদ খগেন কোনও কাজ করেননি। এই প্রশ্ন অনেকেই করেছেন। অন্যদিকে উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন বলেন, কিছু মানুষ এসব বলছে। বিক্ষোভের কোনও বিষয় নেই। বিজেপির অভিযোগ, এদিনের ওই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের উস্কানি আছে।
জমা জল থেকে কবে মুক্তি পাবেন শহরবাসী? সাংসদের মন্তব্য, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। পাইনি। সমস্যা সমাধানে আমি জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। পাম্প দিয়ে জল বের করতে হবে।
নাগরিক পরিষেবা দিতে পুরসভা ব্যর্থ বলে এদিনও তোপ দেগেছেন সাংসদ। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ বলেন, আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করছি। জল বের করে দিতে পাম্প বসানো হয়েছে। আমি নিজেও ওই ওয়ার্ডে গিয়েছি। কাউন্সিলাররাও ছুটছেন। চেয়ারম্যানের তোপ, জিতে যাওয়ার পর এলাকায় আর আসেন না সাংসদ, বিধায়ক। অনেক দিন পর মানুষ তাই সাংসদ ও বিধায়ককে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একই বক্তব্য ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রিমি দাস পালের স্বামী নৃপেন পালের। বলেছেন, বিজেপি ভোট নিয়ে চলে যায়। কাজ করে না। তাই ‘গো ব্যাক’ স্লোগান উঠেছে। নিজস্ব চিত্র।