সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: অবৈধ টোটোর ভিড়ের মাঝে স্কুলবাসের বেপরোয়া চলাচলে চিন্তায় অভিভাবকরা। শিলিগুড়ি শহরে প্রতিপদে বাড়ছে পথচারীদের বিপদ। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের, কিন্তু গত বুধবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সামনে গাড়ির ধাক্কায় এক বধূর মৃত্যুতে স্কুলবাস নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকদের একাংশ অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক ড্রাইভার দিয়ে স্কুলবাস চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে তারা প্রশাসনে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, অনেক ড্রাইভার সরকারি এবং বেসরকারি পরিবহণ সংস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করে অবসর নেওয়ার পর এখন স্কুল বাস চালাচ্ছেন।
মার্গেরেট ইংলিশ স্কুলের শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, বয়স্ক ড্রাইভার দিয়ে স্কুলবাস চালানো অত্যন্ত ঝুঁকির। দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি সহ শারীরিক সক্ষমতায় স্কুলবাস চালকরা কতটা উপযুক্ত তা কোনও স্তরেই নিয়মিত পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেই। ট্রাফিকের হাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব। তাতে খামতি না থাকায় শ্রেয়।
শহরের একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, স্কুলকে এব্যাপারে জানানো হলেও সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে ছেলেমেয়েদের এই বয়স্ক ড্রাইভারদের দিয়ে চালানো বাসে যাতায়াত করাতে বাধ্য হচ্ছি। প্রতিটি মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঝুঁকি রয়েছে।
গত বুধবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে কাছে কাছারি রোডে ফুটপাত দিয়ে এক মহিলা যাচ্ছিলেন। সেসময় রাস্তার ধারে একটি ম্যাক্সিক্যাব যাত্রী নামাচ্ছিল। তখনই একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বাস পিছন থেকে এসে ম্যাক্সিক্যাবটিকে ধাক্কা মারে। তাতে ম্যাক্সিক্যাটি ফুটপাতে উঠে গিয়ে ওই মহিলাকে সজোরে ধাক্কা মারলে প্রাইভেট টিউটর ওই মহিলার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শহরে স্কুলবাসের বেপরোয়া চলাচল ও বয়স্ক ড্রাইভার দিয়ে বাস চালানো সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠেছে। যদিও ইংরেজিমাধ্যম কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে মন্তব্য করতে চায়নি। স্কুলবাসের এই ঝুঁকির পাশাপাশি শিলিগুড়ি শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা থেকে পাড়ার রাস্তায় টোটোর দৌরাত্ম্য আরও বিপদজ্জনক করে তুলেছে। কোর্ট মোড় থেকে হাসমিচক ও হাসপাতালের পিছনের রাস্তাটি টোটোর ভিড়ে সবসময় অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। এতে গোটা এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। বুধবারের মর্মান্তিক ঘটনার পর এধরনের অনিয়ম বেড়ে চলায় পুলিস প্রশাসনের উদাসীনতার দিকটি দেখতে পাচ্ছে ক্ষুব্ধ নাগরিকরা। বুধবারের দূর্ঘটনার পর মৃত বধূর আত্মীয়পরিজনরা পুলিস প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (ট্রাফিক) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, স্কুলবস সহ সব যানবাহন যাতে নিয়মমতো চলাচল করে সেজন্য কড়া নজরদারি থাকবে। ট্রাফিক পুলিস এব্যাপারে সজাগ রয়েছে। অবৈধ টোটো বন্ধ করার প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি আমাদের একা করার কিছু নেই। পুরসভা, মোটরযান দপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে।