• বারাসতের যশোর ও টাকি রোডে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি পার্কিং, ক্ষোভ বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যশোর ও টাকি রোডে দিনের পর দিন পুলিসের সামনেই চলছে বেআইনি পার্কিং। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে লরি। কোথাও দাঁড়িয়ে চারচাকার গাড়ি বা বাইক। ফলে, রাস্তা অপরিসর হয়ে যাওয়ায় ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, পুলিস ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই ঘটনা ঘটছে।


    নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তারপর বৃহত্তর কলকাতাজুড়ে শুরু হয়েছে সেই নির্দেশ মানার তোড়জোড়। কিন্তু উল্টো চিত্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। এই জেলার অন্যতম লাইফ লাইন হল যশোর ও টাকি রোড। এই দুই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়াও আন্তর্দেশীয় পরিবহণের ক্ষেত্রেও এই দুই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সব সময়েই গাড়ির চাপ থাকে। একদিকে রেলগেট পড়ে গেলে নাকাল হন সাধারণ মানুষ। এই ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বেআইনি পার্কিং। যশোর ও টাকি রোডের দু’ধারে নির্দ্বিধায় গাড়ি পার্কিং করে চলে যাচ্ছেন চালকরা। বারাসতের চাঁপাডালি মোড়ের পরেই রাস্তার দু’ধারে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বড় বড় লরি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একইভাবে পার্কিং করা থাকে সেগুলি। এক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে বলেই মনে করেন নিত্যযাত্রীরা।


    যশোর ও টাকি রোডের সংযোগস্থল চাঁপাডালি মোড়ে শুধু গাড়ি বা লরি পার্কিং হয় না, বেআইনিভাবে পার্কিং করা হয় অটো ও টোটো। কোনও এক অদৃশ্য কারণে এই জটিলতা জিইয়ে রয়েছে বারাসতে। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই পুলিস প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রী কড়া মনোভাব দেখানোর পরও বারাসতের দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কেন এখনও বেআইনি পার্কিং হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। শুধু বারাসত শহর নয়, পীরগাছা, কদম্বগাছি, খড়িবাড়ি, দেগঙ্গা, গোলাবাড়ির রাস্তাতেও এভাবেই গাড়ি পার্কিং করা হয়। এমনকী, রাতের দিকে ‘অঘোষিত’ পার্কিং জোন হয়ে ওঠে টাকি রোড। স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ বলেন, বারাসতে টাকি রোডের দু’ধারে ফুটপাতের পাশাপাশি মূল সড়কের অনেকটাই দখল করে রেখেছে বিভিন্ন গাড়ি। মূলত পণ্যবাহী লরি দাঁড়িয়ে থাকায় সমস্যা বাড়ছে। 


    এ নিয়ে বারাসত পুলিসের ডিএসপি ট্রাফিক অলোকরঞ্জন মুন্সি বলেন, সব দিক খতিয়ে দেখে আমরা এ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)