এক পুকুরে তিন রকমের ফলন, মাছচাষে নিশ্চিত লাভের পথ দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: এখন পুকুরে মাছচাষের ক্ষেত্রে ক্রমশ বাড়ছে ঝুঁকি। প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। বিশেষত যে সমস্ত মাছ চাষ করলে বেশি লাভ হয়, সেই চাষের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নানান সমস্যা। ভাইরাস ঘটিত রোগ সহ নানান সমস্যার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা মাছচাষের ভেড়ি। এবার নতুন পদ্ধতিতে মাছচাষ করে নিশ্চিত লাভের পথ দেখাচ্ছেন কাকদ্বীপের কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থা (সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অব ব্র্যাকিশ ওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার)-র বিজ্ঞানীরা।
মূলত একটি পুকুরে মিশ্রচাষের পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সার্বিকভাবে লাভবান হতে পারেন মৎস্যজীবীরা। এই চাষটিকে বলা হয়ে থাকে অ্যাকুয়া পোল্ট্রি হর্টি ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং বা মিশ্র চাষ। গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, এই চাষের পদ্ধতিতে লাভ বেশি না থাকলেও, ক্ষতির কোনও সম্ভাবনা থাকে না। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে এই মিশ্র চাষের প্রচলন দেখা যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে গিয়ে কাকদ্বীপের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা শিবিরের মাধ্যমে এই চাষের পদ্ধতি তুলে ধরছেন।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থার কাকদ্বীপ শাখার অধ্যক্ষ ও প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ দেবাশিস দে বলেন, একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে তিন রকমের চাষ করা সম্ভব। পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস ও মুরগি পালন এবং সবজি চাষও করা যায়। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে এক একর জমিতে মিশ্র চাষ করে বার্ষিক এক লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। মূলত এই চাষের পদ্ধতি অনুযায়ী একটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়। এরপর হাঁস ও মুরগি পালনের জন্য একটি ভাসমান পোল্ট্রি বানানো হয়। ওই পোল্ট্রিতে হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রেখে পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও পুকুরের চারপাশের পাড়ে বিভিন্ন সব্জির চারা বসানো হয়। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পুকুরে মাছের খাবার আলাদাভাবে দিতে হয় না। হাঁস ও মুরগির বর্জ্য পদার্থ থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে খাবার তৈরি হয়। পোল্ট্রি ফার্মটি পুকুরে ভাসমান থাকার কারণে খাবার চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পুকুরের জল নষ্ট হয় না। এই মিশ্র চাষের ফলে একটি পুকুর থেকেই একজন কৃষক মাছ, মাংস, ডিম ও বিভিন্ন রকমের শাকসব্জি পেতে পারবেন।