এক মাসে শহরে গতিসীমা লঙ্ঘনের মামলা ১৯ হাজার, হটস্পট বাইপাস
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৪
স্বার্ণিক দাস, কলকাতা : ২০২৩ সালের জুন মাস। ৩০ দিনে সাকুল্যে কলকাতার রাস্তায় গতিসীমা লঙ্ঘনের মোট মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০৮। চলতি বছরের জুন মাসে তা ১০ গুণের বেশি বেড়েছে। লালবাজারের পরিসংখ্যান বলছে, ৩০ জুন পর্যন্ত একই অভিযোগে মামলার সংখ্যা ১৯ হাজার ২৭১। শহরের রাস্তায় চারচাকা গাড়ি, বাইকের বিপজ্জনক গতির দৌরাত্ম্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তাতেও হুঁশ নেই শহরবাসীর। এই একই মাসে তিনদিনের ব্যবধানে বাইপাসে ওভার স্পিডিংয়ের জেরে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তাহলে কেস বৃদ্ধির সাফল্য কোথায়? পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই ভ্রু কুঁচকেছে লালবাজারের কর্তাদের।
পুলিস সূত্রে খবর, জুন মাসের ৯ ও ১১ তারিখ ই এম বাইপাসে পরপর দু’টি বাইক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমটি ঘটে মুকুন্দপুর মেন রোড-বাইপাস ক্রসিংয়ে। দ্রুতগতির বাইক নিয়ে সজোরে পুলিসের গার্ডরেলে ধাক্কা মারেন ১৮ বছরের যুবক। ঠিক তিনদিন পর বাঘাযতীন ফ্লাইওভারের উপর ফের বেপরোয়াভাবে বাইক ছোটাতে গিয়ে লরিতে ধাক্কা মেরে প্রাণ হারান আরেক যুবক। এরপরেই শহরে বেপরোয়া গতির দৌরাত্ম্যের পরিসংখ্যান জানতে চান কলকাতা ট্রাফিক পুলিসের কর্তারা। তাতে দেখা গিয়েছে, ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২৭১টি গতিসীমা লঙ্ঘনের মামলা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান হাতে পাওয়ার পরই কোন কোন এলাকায় দৌরাত্ম্য বেশি তা খোঁজ নেন আধিকারিকরা।
দেখা যায়, গতির খেলায় প্রধান হটস্পট ই এম বাইপাস। রাতের বেলা বিপজ্জনক গতিতে মেতে ওঠেন বাইকচালকরা। মোট কেসের প্রায় ৪০ শতাংশই ই এম বাইপাসের উপর। উল্টোডাঙা ও গড়িয়া ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় কেস করা হয়েছে। এর মধ্যে স্পিড সেন্সিং ক্যামেরার পাশাপাশি ম্যানুয়াল মাধ্যমেও কেস রুজু করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তা সত্ত্বেও গতির দৌরাত্ম্য কমছে না কেন? যা ভাবাচ্ছে পুলিস কর্তাদের।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৬ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ। সেই সপ্তাহে ট্রাফিক নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল কলকাতা পুলিস। সপ্তাহজুড়ে গাড়ি, বাইকচালকদের বেপরোয়াভাব কমাতে দেদার কেস করে লালবাজার। সেই সপ্তাহে বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি ও বাইক চালানোর অভিযোগে ৪২৭টি মামলা রুজু হয়। কলকাতা পুলিসের দাবি, গত দু’বছরের মধ্যে ওই সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি মামলা রুজু করা হয়। তারপর থেকে শহরের রাস্তায় বেপরোয়া গতির দৌরাত্ম্যে লাগাম টানতে সক্ষম হয় লালবাজার। গত বছর প্রতিমাসেই কমবেশি দেড় হাজারের কাছাকাছি সংখ্যক মামলা রুজু করা হয়েছিল। এবারে সেই সংখ্যা বাড়তে চলেছে বলেই দাবি পুলিস কর্তাদের।