তারাপীঠের ঐতিহ্যবাহী পূর্বসাগর পুকুর অস্তিত্ব সঙ্কটে, সংস্কারের দাবি বাসিন্দাদের
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পার্কিং থেকে অবৈধ দোকান, লজের বাড়তি অংশ। অবৈধ নির্মাণের জেরে দখল হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ জায়গা। এরফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে তারাপীঠের ঐতিহ্যবাহী পূর্বসাগর পুকুর। একটা সময় দেবীর ভোগের বাসনপত্র এই পুকুরে ধোয়া হতো। এখন ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়ার পথে এই পুকুর। তবে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর আশায় বুক বাঁধছেন তারাপীঠবাসী। এবার প্রশাসন এখানেও অভিযান চালিয়ে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে পূর্বসাগর পুকুর, সেই আশা করছেন বাসিন্দারা।
তারাপীঠের প্রাচীন পুকুরগুলির মধ্যে অন্যতম পূর্বসাগর। এই পুকুরের নামেই তারাপীঠের মেন রাস্তা থেকে মন্দিরে ভিভিআইপি গেটের সংযোগস্থল রাস্তার নাম পূর্বসাগর মোড়। প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে পুকুর। বহু পুণ্যার্থী এই পুকুরে স্নান করে তারা মায়ের কাছে পুজো দেন। গৃহস্থালির কাজেও অনেকে এই পুকুর ব্যবহার করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রে তারাপীঠে গত কয়েক বছরে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী পুকুরের দিকে দৃষ্টি পড়েছে জমি হাঙরদের। বাণ্যিজিক দোকান বা লজ, হোটেল নির্মাণের উদ্দেশ্যে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র মাটি, ইটভাঙা, আবর্জনা ফেলে পুকুর ভরাট চালাচ্ছে। প্রায় দু’বছর ধরে একটু একটু করে ভরাট চলছে। অনেকেই পুকুরের অংশ বুজিয়ে পাকা নির্মাণ করেছেন। কেউ আবার হোটেলের বোর্ডারদের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা করেছেন। কোথাও আবার দোকান হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, এমনিতেই এলাকায় জলাশায় কমে এসেছে। তার উপরে পুকুর সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর বহুতল লজ গড়ে উঠেছে। আগুন লাগলে দমকল আসার আগে পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না। তারাপীঠে নিত্যদিন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের আনাগোনা রয়েছে। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ আছে। অথচ এনিয়ে সকলেই উদাসীন। পুকুরটি আগের অবস্থায় ফেরানোর দাবি তুলে ২০২২ সালে প্রশাসনের সর্বস্তরে অভিযোগ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রামপুরহাট-২ বিএলএলআরওর পক্ষ থেকে মাপজোখ করে ১৫ দিনের মধ্যে ভরাট অংশ পূর্বের অবস্থায় ফেরানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরপরই অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি ঠান্ডাঘরে চলে যায়। এই সুযোগে দেদার ভরাটের কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনিক ঢিলেমির জন্যই বিলীনের পথে ‘পূর্বসাগর’। ভরাটকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের ‘সেটিং’ হয়েছে কি না জানি না। এর আগে পুকুরটি বাঁচাতে টিআরডিএর পক্ষ থেকে ঘাট করা হয়। কিন্তু তারপরও পুকুর বোজানো অব্যাহত রয়েছে। টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ডবল লেনের সময় যাঁরা ফুটপাত ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁদের কর্মতীর্থ করে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন নতুন লোক এসে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করেছেন। রাজ্যজুড়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সেখানে তারাপীঠে রাস্তার দু’ধার দখলমুক্ত করতে মাইকিং করে দায় সেরেছে স্থানীয় প্রশাসন। যদিও টিআরডিএর সিইও তথা রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, পূর্বসাগরের প্রতি যেমন নজর রয়েছে, তেমনই তারাপীঠজুড়ে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে।