দহিজুড়িতে রথের মেলায় পুতুল বিক্রি করে পড়ার বই কিনতে চায় অনু, ভ্রমর, দিয়ারা
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, দহিজুড়ি: রাজ্য সড়কের ধারে পুতুল নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে কচিকাঁচারা। পুতুল বিক্রির টাকা দিয়ে কেউ কিনবে বই, আবার কেউ স্কুলে টিফিনের খরচ তুলবে পুতুল বিক্রি করে। তবে তাঁরা প্রত্যেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মেধাবী হিসেবেই পরিচিত। ছবিটা বিনপুর থানার দহিজুড়ি বাজার এলাকার। এই এলাকায় রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মানুষের উৎসাহ থাকে চোখে পড়ার মতো। উল্টোরথের দিনও সেই ধারা বজায় থাকে। স্থানীয় পালপাড়ার ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে পুতুল তৈরি করে। দশম শ্রেণির ছাত্রী অনু পাল প্রতিবছর নিজে হাতে পুতুল তৈরি করে রথের মেলায় বসে বিক্রির জন্য। বাড়িতে অভাবের সংসার। তাই পুতুল বিক্রি করে পড়ার বই কিনতে চায় অনু। সে দহিজুড়ি মহাত্মা বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রতি ক্লাসে অনু দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তাঁর বাবা দুর্লভ পাল চাষের কাজ করেন। মা মিতু পাল গৃহবধূ। সংসারে অভাবের ছাপ স্পষ্ট।
এদিন দহিজুড়ি মোড়ে পুতুল বিক্রির সময় অনু বলে, বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। সেইমতো পড়াশোনা করছি। তবে পুতুল বিক্রি প্রতিবছর করি। বাড়ির সদস্যদের সহায়তায় পুতুল তৈরি হয়। অনেকেই পুতুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবছর ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দহিজুড়ি এলাকায় প্রতিবছর নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে রথ যাত্রার আয়োজন করা হয়। এই রথযাত্রায় অংশ নেন এলাকার বাসিন্দারা। রথ যাত্রাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের উৎসাহ থাকে চোখে পড়ার মতো। প্রতি বছরের মতো এবছরও দহিজুড়ি এলাকায় রথের দিন রাস্তার ধারে মিষ্টির দোকানগুলিতেও খাজা, সীতাভোগ, জিলিপির পসরা সাজিয়ে রাখা হয়। তার পাশাপাশি ওই এলাকার খুদেরা মাটির পুতুল বিক্রি করতে বসে।
স্কুল পড়ুয়ারা এক মাস আগে থেকে মাটির পুতুল তৈরি শুরু করে। ময়ূর ডিজাইনের পুতুলের দাম ৩০ টাকা। ছোট পুতুলের দাম ২০ টাকা। রথ ও উল্টোরথের দিনে পুতুল বিক্রি হয় একমাত্র দহিজুড়ি মোড়ে। ঝুলনের সময় এই পুতুল ব্যবহার হয়ে থাকে। এদিন পুতুল বিক্রি করছিল ভ্রমর পাল ও দিয়া বেরা। ভ্রমর ও দিয়া এলাকায় মেধাবী ছাত্রী হিসেবেই পরিচিত। তাঁরা বলেন, এই দু’দিন পুতুল বিক্রি করি। এবছর ভালোই বিক্রি হচ্ছে। তবে রঙের দাম অনেক বেড়েছে বলে সমস্যা হয়। পুতুল কিনতে এসেছিলেন দহিজুড়ি এলাকার বাসিন্দা চন্দন সিংহ। তিনি বলেন, যে বয়সে পুতুল নিয়ে খেলার কথা, সেই বয়সে ওরা পুতুল বিক্রি করছে।-নিজস্ব চিত্র