নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আজ, সোমবার রানাঘাট দক্ষিণের উপনির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে। তার আগে রবিবার রথযাত্রার উৎসবই যেন হয়ে উঠেছিল রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে নির্বাচনী প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দু। রথের দড়িতে টান দিয়ে ভিড়ের মাঝে জনসংযোগের সুবর্ণ সুযোগ হাত করতে চাননি তৃণমূল, বিজেপি ও বাম দলের প্রার্থী। এদিন হবিবপুর ইসকনের রথের দড়িতে টান পড়ার আগেই সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথ যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করেন তৃণমূল প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী।
রবিবার হালকা বৃষ্টি ও রোদ্দুরের লুকোচুরি খেলার মধ্যেই সকাল থেকে টানা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন মুকুটমণি। এদিন হিজুলি-১ পঞ্চায়েতে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, পথসভা ও গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় নির্বাচনী প্রচার সারেন তিনি। এরপর নোকারি পঞ্চায়েতের মাটিকুমরায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে জনসংযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী। দুপুরে সোজা চলে যান হবিবপুরের ইসকন মন্দিরে। সেখানে কয়েকশো ভক্তের ভিড়ের মাঝে রথের সামনে দাঁড়িয়ে হাতে তুলে নেন সোনার ঝাড়ু। রথের দড়িতে টান পড়ার আগে রীতি মেনে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখা যায় মুকুটমণিকে। এরপর রথের চাকা রানাঘাটের দিকে এগতেই রথের দড়িতেও তিনি টান দেন।
তৃণমূল প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী বলেন, রথযাত্রা উৎসব সমস্ত সনাতন ধর্মকে মিলিত করে। পবিত্র রথযাত্রায় নির্বাচনের প্রচারের সুযোগ অবশ্যই বাড়তি পাওনা। হবিবপুর সহ রানাঘাট দক্ষিণের প্রচুর সাধারণ মানুষ, কর্মী ও সমর্থকের সঙ্গে রথযাত্রায় অংশ নিয়েছি। ভিড়ের মাঝে ভক্তির উন্মাদনা অনুভব করেছি।
শুধু হবিবপুরেই নয়, রবিবার বিকেলে মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতেও মুকুটমণির সঙ্গে রথের দড়িতে হাত লাগান দলের কর্মীরা। মাঝেরগ্রামে রথযাত্রার মেলার মাঝে তৃণমূল প্রার্থীকে পেয়ে সেলফি তোলার আবদার রাখেন তরুণ প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা। সেই আবদারও মেটান মুকুটমণি। তৃণমূল কর্মীদের কথায়, উপনির্বাচনের প্রচারের শুরুর দিকে লোকসভায় পরাজয়ের রেশ খানিকটা ছিল। কিন্তু, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ ও বাতলে দেওয়া রণকৌশলে সাংগঠনিক সমন্বয় ফিরেছে। জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ এবার তৃণমূলের উপর বর্ষিত হোক।
রথযাত্রার দিন টানা প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন রানাঘাটে দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মনোজকুমার বিশ্বাসও। এদিন দেবগ্রাম, আইশমালি, মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে হুডখোলা গাড়িতে চেপে বাইক র্যালির মাধ্যমে তিনি প্রচার সারেন। এরপর পায়রাডাঙা ও হবিবপুরে রথযাত্রায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতের ছ’টি এলাকায় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিজেপি প্রার্থী মনোজবাবু বলেন, উপনির্বাচনের পরীক্ষার আগে রথযাত্রায় শামিল হওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। নাওয়া খাওয়া ভুলে এখন দিনভর জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ নিয়ে প্রচারে রয়েছি।
এদিন এই বিধানসভা কেন্দ্রের আনুলিয়া, পায়রাডাঙা, কুপার্স এলাকায় সকাল থেকেই পথসভা ও জনসংযোগের মাধ্যমে প্রচার করেন সিপিএম প্রার্থী অরিন্দম বিশ্বাসও। বিকেল নাগাদ হবিবপুরের গ্রামীণ এলাকার একটি রথযাত্রাতেও তাঁকে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে।