রথযাত্রার পুণ্যতিথিতে কাঠামোয় মাটি দিয়ে ভুবনডাঙার শারোদৎসবের সূচনা
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর: রথযাত্রার পুণ্য তিথিতে মা দুর্গার কাঠামোয় মাটি দেওয়ার মাধ্যমে বোলপুরের ভুবনডাঙায় এবছরের শারদোৎসবের সূচনা হল। এবছর ভুবনডাঙার শারদোৎসব ৮০ বছরে পা দিতে চলেছে। প্রতিবছর এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা। তারজন্য দিনকয়েক আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। স্থানীয় শিল্পীর তত্ত্বাবধানে খড় দিয়ে তৈরি হয়েছে মা দুর্গার কাঠামো। এরপর রবিবার সকালে ব্রাহ্মণ পুজো ও মৃত্তিকা লেপন করে দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা করলেন। এদিনের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা বোলপুরের তৃণমূল শহর সভাপতি সুকান্ত হাজরা সহ এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা। এই উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাক, শঙ্খ বাজিয়ে জাঁকজমক করে পুজোর আয়োজন করার পর প্রসাদে জিলিপি বিলি করা হয়।
১৯৪৫ সালে এলাকার প্রথম দুর্গাপুজো হিসেবে পথচলা শুরু করে এই পুজো কমিটি। সাবেকি ধাঁচে তৈরি করা হয় মূর্তি। সেই ধারা আজও অব্যাহত আছে। তখনও দেশের স্বাধীনতা আসেনি বলে হাতেগোনা কয়েকটি দুর্গাপুজোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বোলপুর শহর। ফলে ভুবনডাঙাবাসীকে অন্য এলাকায় গিয়ে পুজোর স্বাদ নিতে হতো। একটু হলেও মন খারাপ থাকত এলাকাবাসীর। ৭৯ বছর আগের কথা। স্থানীয় তরুণ ও বুদ্ধিজীবী, বয়োজ্যেষ্ঠরা দুর্গাপুজো করা যায় কি না, সেনিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক ফলপ্রসূ হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে দুর্গাপুজো করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দুর্গাপুজো এলাকাবাসীর কাছে শুধু ধর্মীয় ভাবাবেগই ছিল না, বরং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঠিকানা হয়ে যায় মাটির চালার দুর্গা মন্দির। সেই সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার উত্তরপাড়ার সঙ্গে দক্ষিণপাড়ার লড়াই লেগেই থাকত। কিন্তু দুর্গাপুজোর আয়োজনের পর থেকে সেই ভেদাভেদ ভুলে একজোট হয়ে ওঠে ভুবনডাঙাবাসী। তাই শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এলাকাবাসীর কাছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব পুনর্মিলন উৎসবেও পরিণত হয়। যাঁদের হাত দিয়ে এলাকায় দুর্গাপুজো প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাঁরা কালের নিয়মে প্রত্যেকেই আজ প্রয়াত। তাঁদের তৈরি শিশুবৃক্ষ আজ মহীরুহে পরিণত হয়ে বোলপুরের অন্যতম সেরা পুজোর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ভুবনডাঙা।
স্থানীয় কাউন্সিলার সুকান্ত হাজরা ও পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য শুভাশিস খামরাই বলেন, প্রথম দিকে মাটির চালা বাড়ি তৈরি করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়। সূচনায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে দিবাকর হাজরা, নিশাপতি মাঝি, দ্বিজপদ হাজরা, অভয়পদ রায়, শ্যামাপদ হাজরা অন্যতম। রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত বিশ্বভারতীর সব থেকে কাছের গ্রাম ভুবনডাঙা। প্রথম থেকেই বিশ্বভারতী ব্রহ্মধর্মে দীক্ষিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্রম প্রাঙ্গণে বরাবরই মূর্তিপুজো নিষিদ্ধ। দুর্গাপুজোর সময় ঠাকুর পরিবারের সদস্যরাও ভুবনডাঙার এই আদি পুজো দেখতে আসতেন। ২০০১ সালে নাট মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখনও এলাকার প্রায় ১১০০ পরিবার দুর্গাপুজো এলেই মেতে ওঠেন উৎসবের চার দিন। রথযাত্রার দিন থেকেই পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হল।