নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গোঘাট-২ ব্লকের বেঙ্গাই পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল। বাম আমলে পঞ্চায়েতের তরফে শালজার এলাকার মোড়লপুকুর পাড়ে গাছ লাগানো হয়েছিল। জমির মালিকরা তৃণমূল পরিচালিত গত বোর্ডের কাছে গাছ কাটার আবেদন জানান। পঞ্চায়েত বোর্ড গাছ কাটার অর্থ দুইপক্ষের মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশ হারে ভাগ করার রেজোলিউশন পাশ করে। কিন্তু জমির অংশীদাররা সেই দাবি খারিজ করে দেন। বর্তমান বোর্ড আগের রেজোলিউশন হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে নতুন রেজোলিউশন পাশ করে। তাতে ন্যূনতম অর্থে গাছ কাটার প্রস্তাব পাশ হয়। বেআইনি এই কাজ নিয়ে বিডিও দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরামবাগ গাছ মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। নদী বাঁধের পাড়, বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় অবাধে গাছ কাটা চলছে। ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের একাংশ বেআইনি গাছ কাটার কারবারে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠছে। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে নিয়ম বাঁচিয়ে লাখ লাখ টাকার গাছ লুট করে নেওয়া হচ্ছে। বেঙ্গাই পঞ্চায়েতের বর্তমান উপপ্রধান বাসুদেব মণ্ডল বলেন, গত বোর্ডের গাছ কাটার রেজোলিউশন পাশের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। অংশীদারদের দাবি মেনে ন্যূনতম অর্থ নিয়ে নতুন বোর্ড গাছ কাটার প্রস্তাব পাশ করেছে। মহকুমার বনদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে গাছ কাটা হয়েছে। যদিও গত বোর্ডের পঞ্চায়েত উপপ্রধান জয়দেব কোঙার বলেন, বাম আমলে পঞ্চায়েত ৭৫ শতাংশ ও অংশীদাররা ২৫ শতাংশ পাবে বলে প্রথম রেজোলিউশন পাশ হয়। গত বোর্ডের সময়ে নিয়ম মেনে পঞ্চাশ শতাংশ হারে গাছ কাটার রেজোলিউশন পাশ হয়। জমির অংশীদাররা পঞ্চায়েতেকে পঁচিশ শতাংশ অর্থ দেওয়ার ও নিজেদের জন্য বাকি ৭৫ শতাংশ অর্থের দাবি করেন। সেই দাবি পত্রপাঠ খারিজ করে দেওয়া হয়। বর্তমান বোর্ডের দাবি, আগের রেজোলিউশনের কপি অফিসে পাওয়া যায়নি। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরদের বক্তব্য, বিগত বছরগুলোর রেজোলিউশনের কপি হারানোর কথা নয়। গত পঞ্চায়েত বোর্ডের উপপ্রধান গোঘাট-২ ব্লকের বিডিওকে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তৃণমূলের বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান কাজল রজক বলেন, গত বোর্ডের গাছ কাটার রেজোলিউশন কপি পাওয়া যায়নি। সেই কারণে জেনারেল বোর্ডের মিটিংয়ে নতুন রেজোলিউশন পাশ করে গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন চুক্তিতে পঞ্চায়েত ও অংশীদাররা কত টাকা পেয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। পঞ্চায়েত প্রধানকে বিষয়টি না জানিয়ে রেজোলিউশন কীভাবে পাশ হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাম আমলের পঞ্চায়েতের সদস্য সত্যসাধন ঘোষ বলেন, তৎকালীন সময়ে পঞ্চায়েত চুক্তি করে গাছ লাগিয়েছিল। সেই কাগজপত্র পঞ্চায়েতে থাকার কথা। অংশীদারদের একাংশ পঞ্চায়েতের সঙ্গে চুক্তির করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তারপরেও নতুন করে কীভাবে রেজোলিউশন হল ও কীভাবে গাছ কাটা হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক বলেন, গোঘাটের বেঙ্গাই পঞ্চায়েত এলাকায় বেআইনিভাবে লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলো ঘুঘুর বাসা হয় হয়ে উঠেছে। এই দুর্নীতির তদন্ত হওয়া দরকার। সাংসদ মিতালি বাগ বলেন, বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। স্থানীয় প্রশাসনকে দেখার আর্জি জানিয়েছি। দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আরামবাগের এসডিও সুভাষিনী ই বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ত্রুটি থাকলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।