• বেঙ্গালুরুর হস্টেলে কাঁকসার নার্সিং ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, মানকর: বেঙ্গালুরুর হস্টেলে কাঁকসার গোপালপুরের নার্সিং ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম দিয়া মণ্ডল(২০)। দেড় বছর ধরে তিনি বেঙ্গালুরুর জাল্লাহালি থানা এলাকার একটি নার্সিং কলেজের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছেন। শনিবার রাতে তাঁর মাকে সহপাঠীরা ফোন করে মৃত্যুসংবাদ দেন। তাঁকে জানানো হয়, দিয়াকে নিজের রুমেই ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। দিয়ার বাবা দিল্লিতে কর্মরত। তিনি খবর পেয়েই বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে কোনওমতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।


    বেঙ্গালুরুর জাল্লাহানি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, হস্টেল থেকে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিয়া তাঁর মা-বাবার সঙ্গে কাঁকসা থানার গোপালপুরের সন্ন্যাসীতলায় দীর্ঘদিন ভাড়া ছিলেন। এখন তাঁরা গোপালপুরের সত্যনারায়ণ পল্লিতে ভাড়া থাকেন। মেয়েটির মামাবাড়িও এখানে। বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজ থেকে নার্সিং ট্রেনিং করছিলেন। এটি তাঁর দ্বিতীয় বর্ষ ছিল। সহপাঠীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শনিবার রাতে হস্টেলে ফিরে দেখেন দিয়া নিজের রুমে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। খুব সম্ভবত তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও তাঁর মা একথা মেনে নিতে নারাজ।


    মৃতার মা বনানী মণ্ডল বলেন, মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার ১০ মিনিট আগেই মেয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ও খুবই স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে। আমার মেয়ে এধরনের কোনও কাজ করতেই পারে না। যদিও পরে মহিলা বলেন, একটি ছেলে তাকে খুবই বিরক্ত করত। বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে কথা বলতে বারণ করত। আমার মেয়ে খুবই ‘সেনসেটিভ’। তাই কিছু হল কি না বুঝতে পারছি না। 


    এদিন সকালে যখন দিয়ার মৃত্যুসংবাদ গোপালপুরে জানাজানি হয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয় পরিজনদের চোখের জল বাঁধ মানছে না। বনানীদেবীর একমাত্র মেয়ে দিয়া। তাঁকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। মৃতার আত্মীয়া শিবানী হালদার বলেন, দিয়া আত্মহত্যা করতেই পারে না। বিভিন্ন মানসিক যন্ত্রণায় যদি কেউ আত্মহত্যার কথা চিন্তাও করত ও চিৎকার করে উঠত। বলত আত্মহত্যা পাপ। এর পিছনে রহস্য রয়েছে। দিয়াদের ভাড়া বাড়ির মালিক জয় মল্লিক বলেন, ওর মতো ভালো মেয়ের জুড়ি মেলা ভার। নিজে কোনওদিন উত্তেজিত হতো না, বরং বড়দের অশান্তি থামাত। দিয়া জুন মাসের ১৪ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত গোপালপুরেই ছিলেন। ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। ২৮ জুন বেঙ্গালুরু ফিরে যাওয়ার পরের দিন বাবা দেবাশিস মণ্ডলও দিল্লি ফিরে যান। এই মৃত্যুর পিছনে সম্পর্কের টানাপোড়েন, নাকি বড় কোনও রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে সকলেই।   দিয়া মণ্ডল।
  • Link to this news (বর্তমান)