সংবাদদাতা, মায়াপুর: মায়াপুর ও নবদ্বীপে ধুমধাম করে পালিত হল রথযাত্রা। রবিবার দুপুরে মায়াপুরের রাজাপুর জগন্নাথ মন্দির থেকে নামসংকীর্তন এবং শোভাযাত্রা সহকারে রথ বের হয়। প্রায় ৫ কিমি পথ অতিক্রম করে সেই রথ ইসকনের চন্দ্রোদয় মন্দিরে এসে পৌঁছয়। প্রথমে নন্দী ঘোষ রথে জগন্নাথদেব, তালধ্বজ রথে বলরাম এবং দর্পদলন রথে সুভদ্রাকে নিয়ে ইসকন মন্দিরে আনা হয়। আগামী ১৪ জুলাই রবিবার পর্যন্ত আটদিনের জন্য জগন্নাথদেব থাকবেন ইসকন মায়াপুরে। তারপর ১৫ জুলাই সোমবার আবার উল্টোরথে জগন্নাথদেব রাজাপুর মন্দিরে ফিরে আসবেন। এবছর পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরে অস্থায়ী গুন্ডিচা মন্দিরে থাকবেন, এটাই জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি। মাসির বাড়ি থাকাকালীন প্রভুকে ৫৬ পদের ভোগ নিবেদন করা হবে। এছাড়াও দীপদান, জগন্নাথ অষ্টকম স্তোত্রপাঠ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভজন-কীর্তন, নাটক, নৃত্যানুষ্ঠান হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
এদিন সকাল থেকে রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তরা উৎসবে মেতে ওঠেন। মন্দির প্রাঙ্গণ ফুল, মালা ও আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়। ইসকনের সুসজ্জিত এই রথ দেখতে রাস্তার দু’ ধারে দেশ বিদেশের ভক্তদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবছর ভিড় তেমন দেখা যায়নি। পুণ্যার্থীরা অনেকেই রথের রশিতে টান দেন।
মায়াপুর গৌরনগরের বাসিন্দা সুচরিতা দেবীদাসী বলেন, আমি প্রতিদিন জগন্নাথদেব, বলরাম এবং সুভদ্রার বিগ্রহ বাড়িতে পুজো করি। সেই পূজিত বিগ্রহকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি রাজাপুরের এই রথ দেখাতে। এদিন অনেক বিদেশি ভক্তদের দেখা যায় পরিবার নিয়ে সেলফি তুলতে। এই আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে এদিন পুলিসি নিরাপত্তা ছিল জোরদার।
ইসকনের পাশাপাশি এদিন বিকেলে মায়াপুরের যোগপীঠ থেকে সুসজ্জিত রথ, চৈতন্য মঠে মাসির বাড়ি যায়। তবে প্রাচীন এই রথে বলরাম ও সুভদ্রা থাকেন না। এই রথে থাকেন মহাপ্রভু ও জগন্নাথদেব।
ইসকনের জনসংযোগ অধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, ভগবান ও ভক্তের মিলন উৎসব এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এখানে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রথের রশিতে টান দিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। পুরীর জগন্নাথের রথের সঙ্গে সঙ্গে এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের শতাধিক জায়গায় ইসকনের উদ্যোগে রথযাত্রা হচ্ছে। এখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, জেলা সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর, বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
এদিন নবদ্বীপেও ধুমধামের সঙ্গে রথযাত্রা উৎসব পালিত হল। রবিবার বিকালে প্রাচীনমায়াপুর বালক সাধুর আশ্রমের জগন্নাথ মন্দিরের রথ বের হয়ে রামকৃষ্ণ মঠ পর্যন্ত আসে। তারপর গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরে মাসির বাড়িতে পৌঁছয়। অন্যদিকে প্রতাপনগর সুদর্শন মন্দিরের পতিতপাবন জগন্নাথদেবের রথ মন্দির থেকে বের হয়ে কপালিপাড়া সুদর্শন মন্দির মাসির বাড়িতে থাকবে। সেখানে আট দিন থাকার পর পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে যাবে বিগ্রহ। দেবানন্দ গৌড়ীয় মঠ, মণিপুর রাজবাড়ি, সারদেশ্বরী আশ্রম সহ বেশকিছু মন্দির থেকে রথ বের হয়েছিল। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে নবদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলায় মেলাও বসেছিল। বিকেলের দিকে হালকা বৃষ্টি হয়। তবে তা রথের আনন্দ মাটি করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। • নিজস্ব চিত্র