• ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলে রিম্পা
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, তেহট্ট:  কন্যাশ্রী কাপে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন। সেই সঙ্গে বাংলা দলে নিয়মিত ভালো খেলা।  সেই কারণেই ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলে সুযোগ পেলেন রিম্পা হালদার। রবিবার দেশের হয়ে খেলতে উড়ে যাচ্ছে মায়নামার। সেখানে অন্তর্জাতিক দুটো ফ্রেন্ডলি ম্যাচে অংশ নেবে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল।  খুশি রিম্পার পরিবার থেকে শুরু করে ক্লাবের কর্মকর্তা ও গ্রামের বাসিন্দারা। 


    পলাশীপাড়া থানার হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের মেয়ে রিম্পা। হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ২০২২ সালে। বাবার নাম  শ্রীবাস হালদার।  ছোট থেকেই ফুটবলের প্রতি অমোঘ টান। গ্রামে মাঠেই খেলা শুরু। বিদ্যালয়ের মাঠে খেলেন স্পোর্টিং ইউনিয়নের ছেলেরা। সেই মাঠে গিয়ে তাঁদের সঙ্গেই ফুটবল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ রিম্পার। দিন মজুরের মেয়ে রিম্পা ফুটবল খেলবে, এটা কেউই বিশ্বাস করেননি। রিম্পার পায়ের কাজ দেখে একজনের বিশ্বাস ছিল, এ মেয়ে ফুটবল নিয়ে অনেক দূর যাবে। তিনি হাঁসপুকুরিয়া স্পোর্টিং ইউনিয়নের কর্তা অভীক বিশ্বাস। তাঁকে আলাদা করে ফুটবলের অনুশীলন করানো শুরু করেন।  রিম্পাকে দেখে এলাকার অনেক মেয়ে ফুটবল খেলার প্রতি ঝোঁক বাড়ে। মাঠে আসতে শুরু করে। শুরু হয় মেয়েদের ফুটবল কোচিং ক্যাম্প। সেখান থেকেই উত্থান রিম্পার। 


    এলাকার মেয়েদের চারটি কোচিং ক্যাম্প নিয়ে শুরু হয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এরমধ্যে কোলকাতায় শুরু হয় কন্যাশ্রী কাপ। শহরের ক্লাবগুলো মহিলাদের এই প্রতিযোগিতা দেখে রিম্পা সহ আরও বেশ কয়েকজনকে নিজেদের ক্লাবে খেলার জন্য চুক্তি করে। সেই চুক্তিতে রিম্পা ইস্টবেঙ্গল  ক্লাবে যোগদান করেন। সেখানে খেলতে গিয়ে বাংলার নির্বাচক মণ্ডলীর চোখে পড়ে যান। এরপর রিম্পা অনূর্ধ্ব ১৯  বাংলা দলে সুযোগ পান। পরে  দলের সহ অধিনায়কও নির্বাচিত হন।  আজ তিনি ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছে। তাঁর লক্ষ্য ভারতীয় দলে পাকা জায়গা করে নেওয়া। 


    রিম্পার বাবা শ্রীবাসবাবু বলেন, ‘ছোট থেকেই ও ফুটবল খেলতে ভালোবাসতো। তাই স্কুলের পর খেলার মাঠে চলে যেত। আমি কোনওদিন বাধা দেইনি। অভীক যখন আমাকে মেয়েকে ফুটবল খেলতে দেবে কি না জানতে চাইল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। তবু মনে সংশয় ছিল, এভাবে ফুটবল নিয়ে মেতে থাকলে মেয়ের ভবিষ্যৎ ক্ষতি হবে কিনা। আজ সব সংশয় দূর হয়ে গিয়েছে।’ রিম্পা বলছিলেন, ‘আমার এই জায়গায় পৌঁছনোর পিছনে মুল অবদান হাঁসপুকুরিয়া স্পোর্টিং ইউনিয়নের। বিশেষ করে অভীক স্যার, চন্দন স্যার বর্মণ স্যার ও অয়ন স্যারের। তাঁদের জন্য আজ আমি এতদুর পৌঁছেছি। আমার লক্ষ্য সুযোগ পেলে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে ভারতীয় দলে জায়গা পাকা করা।’ অভীকবাবু বলেন, ‘রিম্পা খুব প্রতিভাবন খেলোয়াড়। আশা করছি, অচিরেই ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলার  সুযোগ পাবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)