ভরা বর্ষায় খানাকুলের নদী লাগোয়া এলাকায় বন্যার ভয়ে উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বর্ষা আসতেই খানাকুলে নদী-তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এর আগে বন্যায় তাঁরা কেউ বাড়িঘর, কেউ কৃষিজমি হারিয়েছেন। যৎসামান্য ক্ষতিপূরণ সেভাবে কাজে লাগেনি। স্থানীয় বিধায়ক ও বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের সদস্যদের দেখা না পেয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে।
খানাকুল বন্যা-কবলিত এলাকা। দ্বারকেশ্বর, মুণ্ডেশ্বরী, দামোদর ও রূপনারায়ণের অসংখ্য শাখাপ্রশাখা এই এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে। গত কয়েক দশকে এই এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। আরামবাগ শহরও বন্যার কবলে থেকে মুক্তি পায়নি। ২০২১ সালের বন্যায় খানাকুল-১ ব্লকের অরুন্ডা , রামমোহন ১ ও ২, কিশোরপুর ১ ও ২, ঠাকুরানিচক, ঘোষপুর, পোল ১ ও ২ ব্লকের ধান্যগোড়ী, জগৎপুর, মারোখানা, রাজহাটী ১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত হয়। এতে জনবসতি এলাকা, কৃষিজমি প্লাবিত হয়। এলাকার মানুষ বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে নদীর ধার থেকে পিছিয়ে এসে একচিলতে ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬০-৭০হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। ক্ষতিগ্ৰস্তদের দাবি, সেই টাকায় জমি কেনা, বাড়িঘর তৈরি কিছুই হয়নি । বর্ষা আসতেই বাসিন্দারা ফের একচিলতে ঘর, হাতে থাকা সামান্য জমি হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
ধান্যগোড়ী পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান কার্তিক ঘোড়া বলেন, বন্যা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। তৃণমূলের লোকজন আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে। বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, সেচ দপ্তর পরিকল্পিতভাবে কাজ না করায় বাঁধের পাড় ধসে যাচ্ছে। সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই পঞ্চায়েত কাজ করছে। নতুন সাংসদকে কিন্তু বাঁধ এলাকার মানুষের খোঁজখবর করতে দেখা যায়নি। আরামবাগ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। বন্দীপুর, ঠাকুরানীচকের মতো যেসব জায়গায় বাঁধ ভেঙেছিল, সেখানে শালবল্লা, বোল্ডার দিয়ে বাঁধ উঁচু করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় বাঁধের দুর্বল অংশ চিহ্নিত করে কাজ হয়েছে।
ঘোড়াদহ এলাকার বাসিন্দা তনুশ্রী বেরা বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাস এলেই আতঙ্ক দেখা দেয়। ২০১৫ , ২০১৭ ও ২০১৯ সালের বন্যায় আমাদের বহু ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। নদের ধারে ফসলি জমি পুকুর হয়ে গিয়েছে। কিছুটা দূরে নতুন করে মাথা গোঁজার একটা ঘর বানিয়েছি। ক্ষতিপূরণের ৬৯হাজার টাকায় কি আর বাড়িঘর হয়? আমরা যে কীভাবে বেঁচে আছি, তা বিধায়ক, পঞ্চায়েতের সদস্যরা দেখতে আসেন না। বাঁধ যাতে ভেঙে না যায়, প্রশাসন সেদিকে নজর দিক।
ধান্যগোড়ী পঞ্চায়েতের করপাড়ার বাসিন্দা স্মৃতিকণা সামন্ত বলেন, রূপনারায়ণ নদের তীরে থাকি। বোল্ডার ও মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধ বাঁধানো হয়েছে। কিন্তু তা আরও উঁচু করা দরকার ছিল। নদের জল বেশি বাড়লে বাঁধ টপকে এলাকায় ঢুকে পড়তে পারে।
আরামবাগের এসডিও সুভাষিণী ই বলেন, প্রশাসনের আধিকারিকরা ধারাবাহিকভাবে বাঁধ পরিদর্শন করছেন। বাঁধ বসে যাওয়ার অভিযোগ পেলেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলায় আমরা সবরকমভাবে প্রস্তুত।