• কাজ শেষ না হতেই রাজগঞ্জে ভেঙে পড়ল পাঁচ কোটির ড্রেন
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: লোকসভা ভোটের আগে পূর্তদপ্তরের পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে শুরু করা হয়েছিল ড্রেন এবং ফুটপাত নির্মাণের কাজ। বর্ষা শুরু হতে না হতেই সদ্যনির্মিত সেই ড্রেনের একটি বিরাট অংশ ভেঙে পড়ল। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজগঞ্জের সুখানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাবুপাড়ায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুরনো ড্রেনের উপরেই তৈরি করা হয়েছে এই নতুন ড্রেন। মাত্র কয়েক মাস আগে তৈরি ড্রেনের ওই অংশটুকু সামান্য জলের চাপে কেন ধসে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার ব্যবসায়ী এবং বিরোধী নেতারা। সরকারি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।


    এবিষয়ে রাজগঞ্জের ব্যবসায়ী বিপ্লব রায়, দিলীপ দাসরা বলেন, মাত্র তিন মাস আগে এই ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষা শুরু হতে না হতেই এখন যেভাবে নালার অংশটুকু ধসে পড়েছে তাতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা আরও দীর্ঘমেয়াদি হবে। রাজগঞ্জ বাজারের মধ্যদিয়ে ওই কাজ নিয়ে শুরু থেকেই আমাদের আপত্তি ছিল। ভালোমতো কাজ হচ্ছিল না। আমরা আগেই অভিযোগ করেছিলাম। রবিবার সেই নালার একটি অংশ ভেঙে পড়ায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ মান্যতা পেল। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ দেবনাথ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজগঞ্জ ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যখন কাজ শুরু হয় সেই সময় ঠিকাদার সংস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে সঠিকভাবে কাজ করতে বলা হয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতি রয়েছে। ড্রেনের সাপোর্টের জন্য মাঝে মাঝে গার্ড দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই অল্প সময়ে ড্রেন ভেঙে পড়েছে। বিজেপির রাজগঞ্জ দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি সুশান্ত রায় বলেন, দেখেই মনে হচ্ছে এটা দুর্নীতি। কাজ শুরু হওয়ার চার মাস হল, প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাজ। রাজগঞ্জ বাজার থেকে করতোয়া নদী হয়ে রাজগঞ্জ হাইস্কুল পর্যন্ত ড্রেনের সঙ্গে ফুটপাতের রাস্তা হচ্ছে। কাজটা পুরোটাই নতুন ছিল। কিন্তু পুরনো ড্রেনের উপরেই কাজ করে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবশেষে তিন মাস যেতে না যেতেই ড্রেনটি ভেঙে পড়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে পুরোপুরি দুর্নীতি হয়েছে। শাসক দল মানেই শুধু কাটমানি। আমরা এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট করতে দেব না। সঠিকভাবে কাজ না হলে আন্দোলনে নামব। 


    এনিয়ে পূর্তদপ্তর (সড়ক) ও ঠিকাদারের সংস্থার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফোন তোলেননি। মেসেজ করলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)