শুখা মরশুমে তুলে রাখা বালি বর্ষায় পাচার করছে মাফিয়ারা
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও চোপড়া থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে বালি পাচার বন্ধ হচ্ছে না। বর্ষায় নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় শুখা মরশুমে তুলে রাখা বালি দেদার পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। মহানন্দা ও ডক নদী থেকে বালি তুলে বিভিন্ন জায়গায় ডাঁই করে রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনকে কয়েকবার জানানোর পরেও অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মহানন্দা ও ডক নদী থেকে মাফিয়ারা প্রায় সারা বছরই বালি তোলে। এবার ভাটা ও সলসলি নালা থেকেও প্রচুর বালি তোলা হয়েছে। সেই বালির একাংশ মজুত করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। চোপড়ার কংগ্রেস নেতা অশোক রায় বলেন, কয়েকদিন লাগাতার বৃষ্টিতে নদী থেকে বালি তুলতে পারছে না। তুলে রাখা বালি পুলিস প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে পাচার হলেও কেউ পদক্ষেপ নেয় না।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বালি পাচার রুখতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, এমভিআই, মহকুমা শাসককের অফিসের স্টাফদের নিয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। সোনাপুরে ৩১ নং জাতীয় সড়কে ওই টিম ডিউটি করে। ডিউটিতে থাকা কর্মীদের পোশাকে ক্যামেরা লাগানো থাকে। তবে, নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় বারবার পাচারকারীরা রুট বদল করছে বলে দাবি পুলিস ও প্রশাসনের।
বিজ্ঞান মঞ্চের চোপড়া শাখার অন্যতম সদস্য যোগেশ বর্মন বলেন, কিছু অসাধু লোক নদী থেকে মেশিনের মাধ্যমে বালি তুলেছে। এই অব্যবস্থার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর। চোপড়ার বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর নীচে নেমে গিয়েছে। এবছর কয়েকটি এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের সমস্যায় পড়েছিলেন বাসিন্দারা। বালির কারবার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
ইসলামপুর পুলিস জেলার এসপি জবি থমাসের কথায়, এখন নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ আছে। বালি পাচারের খবর নেই। শুখা মরশুমে তুলে রাখা বালি পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দু’টি জায়গা থেকে বালি তোলার লাইসেন্স ছিল। এই বিষয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ইসলামপুর মহকুমা আধিকারিক (এসডিএলআরও ইনচার্জ) ভূপেন্দ্র সুব্বাকে ফোন করলেও রিসিভ করেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি তিনি। নিজস্ব চিত্র