• ২৪ ঘণ্টায় ১৬৬ মিমি বৃষ্টি, জলমগ্ন জলপাইগুড়ি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: টানা বৃষ্টির ঘনঘটা কাটিয়ে উঠলেও সার্বিকভাবে ভারী বৃষ্টির জেরে রবিবারও জলমগ্ন থাকল জলপাইগুড়ি শহরের বিস্তীর্ণ অংশ। জল জমে রয়েছে ১ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নীচমাঠ, পরেশ মিত্র কলোনি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ উন্নয়ন পল্লি, দিনবাজার সহ শহর লাগোয়া খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি, রাখালদেবী, উত্তর সুকান্তনগর, দক্ষিণ সুকান্তনগর, সারদাপল্লি, চনপাড়া সহ কিছু এলাকা। এদিনও জল না নামায় ত্রাণ শিবিরেই থাকতে হল শহরের নীচমাঠ ও পরেশ মিত্র কলোনির ৩৫টি পরিবারকে। 


    আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কয়েকদিন ধরেই ভারী বৃষ্টি চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেই ধারা অব্যাহত। আজ, সোমবারও জেলায় ভারী বৃষ্টির ক্ষেত্রে হলুদ সতর্কতা জারি রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। বলা হয়েছে, বিক্ষিপ্তভাবে এক-দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়ি শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১৬৬ মিলিমিটার। শুধু তাই নয়, ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে দোমোহনিতেই। একইভাবে নেওড়ায় ১৫৩ মিমি, ১৬১ মিমি মূর্তিতে, গজলডোবায় ১৬২ মিমি, ১২৩ মিমি বাগরাকোটে, নাগরাকাটা ৩৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। যার জন্য এদিনও জেলা প্রশাসনের তরফে আটটি ত্রাণ শিবির চালু ছিল। যার মধ্যে শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডেও ফ্লাড শেল্টার একটি। সবমিলিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় অন্তত ৯৫০ জন দুর্গত মানুষ ত্রাণ শিবিরে আছে। 


    এদিনও দিনভর জলপাইগুড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া করলা নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে ফুলে থাকে। ওই নদীর জল ঢুকে গিয়ে রীতিমতো দিনবাজারের ফিস মার্কেটে জল ঢুকে যায়। বাধ্য হয়ে মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা দিনবাজার ব্রিজের উপর মাছ বিক্রি করতে বসে যান। দিনবাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সদস্য নিপু শাহ বলেন, মাছ বাজারে এদিন করলা নদীর জল ঢুকে যায়। হাঁটুসমান জল জমে যায়। সময় মতো মাছের অকশন করা যায়নি। দুর্ভোগ পোহাতে হয় মাছ ব্যবসায়ীদের। অনেকে অল্প দামে মাছ বিক্রি করে দিতেও বাধ্য হন। উদাহরণ স্বরূপ দুই কেজি ওজনের চিতল মাছ বিক্রি হয় এদিন ৩০০ টাকা কেজি দরে। পড়ে বেলা বাড়তে জল কমলে ব্যবসায়ীরা বাজারে ফেরত যান। 


    শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সুভাষ উন্নয়ন পল্লির জলবন্দি অবস্থা নিয়েও পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাসিন্দাদের। দুলালি রায়, নিরুপম মিস্ত্রিদের অভিযোগ, এলাকার মানুষ জলবন্দি অবস্থায়। নিকাশি ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এই এলাকায় একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে থাকছে। মানুষের ঘরে জল ঢুকে যায়। স্থানীয় কাউন্সিলার বা পুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলার প্রমোদ মণ্ডল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, যা বলার পুরসভা বলবে। পুরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল বলেন, আগের থেকে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। গত কয়েক দিনের লাগাতার ভারী বৃষ্টির পরেও জল দ্রুত বেরিয়ে গিয়েছে। কারণ পুরসভা গত কয়েক মাস ধরে শহরের নিকাশি নালা, নর্দমা পরিষ্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত সমস্যা থেকে গিয়েছে। সেগুলিও আগামী দিনে পরিকল্পনা মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)