সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: বড়সড় চুরির ঘটনা ঘটল ময়নাগুড়ির বার্নিশ পঞ্চায়েত এলাকায়। কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না সহ আট লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ জমা হয়েছে ময়নাগুড়ি থানায়। ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে উল্লাডাবরিতে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর সম্ভবত জানালা দিয়ে ঘুমের ওষুধ স্প্রে করে গ্রিল খুলে ঘরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। রবিবার দুপুরেও পরিবারের সদস্যদের তন্দ্রাভাব কাটছিল না। অবশ্য সকালেই পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ময়নাগুড়ি থানার পুলিস জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবার একটু বেলা করে ঘুম থেকে ওঠেন গৃহকর্ত্রী অঞ্জনারানি পাল। তবে তন্দ্রা কাটছিল না তাঁর। চোখেমুখে জল দেওয়ার পর দেখেন, অন্য একটি ঘরে আলমারি খোলা, জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ঘরের দরজা খোলা। এমনটা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। স্বামী নিতাই পালকে বহুবার ডাকা হলেও তিনি ঘুম থেকে উঠছিলেন না। পরে অন্য একটি ঘরে গিয়ে অঞ্জনাদেবী দেখেন, জানালা খোলা, গ্রিলটি নীচে নামানো। তিনি নিশ্চিত হন রাতে চোর ঘরে ঢুকেছিল। তিনি চিৎকার চেঁচামেচি করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা একে একে ঘুম থেকে ওঠেন। পরে দেখেন, আলমারিতে থাকা টাকা, সোনাদানা নেই। খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে আসে ময়নাগুড়ি থানার পুলিস।
অঞ্জনারানি পাল বলেন, রবিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও তন্দ্রাভাব কাটেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ঘুমের ওষুধ স্প্রে করে দুষ্কৃতীরা চুরি করেছে। না হলে এমনটা হতো না। এতকিছু হয়ে গেলেও পরিবারের কোনও সদস্য কিছুই টের পাননি। তাছাড়া জানালার গ্রিল খোলা ছিল।
অঞ্জনাদেবীর ছেলে তাপস পাল বলেন, আমি হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করি। ব্যবসার আট লক্ষ টাকা বাড়িতে রাখা ছিল। আমার ও বাবার ঘরে দুষ্কৃতীরা ঢুকে চুরি করেছে। শনিবার রাতে বাড়ি ছিলাম না। ব্যবসার কাজে মালবাজারে একটি মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। দুষ্কৃতীরা বিষয়টি হয়তো জানত। আমার বিয়ের ও ছেলের অন্নপ্রাশনের যা সোনা, রুপোর গয়না ছিল, সবটাই নিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও হার্ডওয়্যারের মালপত্র বিক্রি করে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে পাওয়া বেশকিছু সোনার কয়েন রাখা ছিল, তাও নেই। মায়ের গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিস জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় তদন্তে নামা হয়েছে। বাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও গোটা বিষয়টি শোনা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র