• ভাঙল শিসামারা নদীর জিও সিন্থেটিক বাঁধ জল আটকাতে তড়িঘড়ি কাজ শুরু সেচদপ্তরের
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ভুটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টিতে জল বেড়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারের শিসামারা নদীতে। শিসামারার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভাঙল সেচদপ্তরের জিও সিন্থেটিক বাঁধ। শালকুমারের নতুনপাড়ায় শিসামারার উজানে ২৫০ মিটার ও ভাটিতে ১৫০ মিটার বাঁধ ভেঙেছে। তবে রবিবার জল কিছুটা নেমে যাওয়ায় কোনও এলাকা প্লাবিত হয়নি। এদিকে, রবিবার থেকে সেচদপ্তর ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলে ভাঙা বাঁধের অংশ মেরামতের কাজ শুরু করছে। যদিও এদিন সেচদপ্তরের ওই কাজ দেখে এলাকার বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গার দাবি, বালির বস্তা ফেলে শিসামারার তাণ্ডব আটকানো যাবে না। এতে শুধু টাকার অপচয়ই হচ্ছে। 


    সেচদপ্তরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অমরেশকুমার সিং বলেন, শালকুমারের নতুন পাড়ায় দুই জায়গায় শিসামারার জিও সিন্থেটিক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙা বাঁধের অংশ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। 


    এদিন শিসামারার ভাঙা বাঁধ দেখতে আসেন আলিপুরদুয়ারের সংসদ মনোজ টিগ্গা। বিজেপি এমপি’কে দেখে স্থানীয়রা ঘিরে ধরে তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে বাঁধ মেরামতের দাবি জানাতে থাকেন। যদিও বাঁধ মেরামতে কেন্দ্রীয় অর্থের বিষয়ে এমপি এলাকার মানুষকে কোনও কথা দিতে পারেননি। 


    মনোজবাবু বলেন, পাহাড়ি নদী শিসামারার জলের গতি প্রচণ্ড। এখানে বালি বা মাটির বস্তার বাঁধ দিয়ে কোনও লাভ হবে না। শুধু শুধু টাকারই অপচয় হবে। শিসামারার ভাঙন আটকাতে খুব শীঘ্রই সেচদপ্তরের সঙ্গে এনিয়ে কথা বলব। 


    বাঁধ মেরামতে এলাকার বিজেপি এমপি কেন্দ্রীয় অর্থের বিষয়ে কোনওরকম স্থায়ী আশ্বাস দিতে না পাড়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। উল্টো বালি বা মাটির বস্তা দিয়ে কোনও লাভ হবে না বলে বিজেপি এমপি’র মন্তব্যে স্থানীয়রাও ক্ষুব্ধ। 


    শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রীবাস রায় বলেন, সেচদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে বস্তা ফেলে শিসামারার ভাঙন রোধ করা হচ্ছে। এলাকার এমপি বাঁধ মেরামতে নিজে কেন্দ্রীয় অর্থের বিষয়ে কোনও গ্যারান্টি দিতে পারেননি। উল্টো বস্তা ফেলে লাভ হবে না বলে মন্তব্য করায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ। বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা যে মানুষের জন্য কাজ করে না, ফের একবার তা প্রমাণ হল। 


    শিসামারার জিও সিন্থেটিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিপন্ন বোধ করছে শালকুমার-১, শালকুমার-২ ও পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। শিসামারার সঙ্গে নতুনপাড়ায় দু’টি সেচনালা আছে। বাঁধ মজবুত না হলে শিসামারার জল ওই দু’টি নালা দিয়ে ঢুকে পড়বে তিনটি পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর জেরেই বিপন্ন বোধ করছেন বাসিন্দারা। কয়েকদিন আগেই ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে শিসামারার জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছিল নতুনপাড়ার শতাধিক বাড়ি। ফের বিপত্তি দেখার আশঙ্কায় স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)