নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: শেষ রবিবারের প্রচারে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। জানালেন, রায়গঞ্জ উপ নির্বাচনে জিতে রায়গঞ্জ-বারসোই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়া থেকেই এই সড়ক নিয়ে কথা বলে আসছেন কৃষ্ণ। এদিন তাঁর মন্তব্য, এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বিহার সরকার ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট দিলেই বাহিনে নাগর নদীর ওপর সেতু নির্মাণ শুরু হয়ে যাবে।
রবিবার সকালে রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন বারোদুয়ারি এলাকা থেকে ভোট প্রচার শুরু করেন কৃষ্ণ। এদিন রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৮ নম্বর বাহিন অঞ্চলের উত্তর বারোদুয়ারিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে সভা করেন। দুপুরে ১৪ নম্বর কমলাবাড়ী অঞ্চলের সেন্ট জোসেফ গির্জার সভাকক্ষে তপশিলি উপজাতির মানুষদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন কৃষ্ণ।
বিকেলে রায়গঞ্জ শহরের বন্দর, উকিল পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জগন্নাথ দেবের পূণ্যধাম থেকে রথযাত্রায় আসা পূণ্যার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রথের দড়িতে টান দেন তিনি।
শেষ রবিবার, তার ওপর রথযাত্রা। সব মিলিয়ে রবিবার সকাল থেকে জমজমাট ছিল রায়গঞ্জ। এদিন সকালে রায়গঞ্জ শহরের অন্যতম বড় বাজার মোহনবাটিতে প্রচার সারেন বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত। বাজার থেকে বেরিয়ে রায়গঞ্জ পুরসভার ৮ ও ৯ এবং ২১ ও ২৩ নম্বর অর্থাৎ পুর প্রশাসকের ওয়ার্ডে প্রচার করেন তিনি। বিকেলে মেহেন্দি গ্রাম গোরাহার গোয়ালদহ সহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রচার সারেন। মোহিত বলেন, আমি বিধায়ক থাকাকালীন কুলিকের পাড়ারপুকুর সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছিল। জিতলে অসমাপ্ত কাজ আগে শেষ করব। রায়গঞ্জের মানুষ ঠিক করে নিয়েছেন, তাঁরা দলবদলুকে বিধায়ক নির্বাচিত করবেন না।
বিজেপি প্রার্থী মানস ঘোষ এদিন অবশ্য গ্রামাঞ্চলের প্রচারেই বেশি জোর দেন। সকাল থেকে তিনি কমলাবাড়ি -২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন এলাকায় যান। প্রচারে তাঁর সঙ্গী ছিলেন সদ্য নির্বাচিত রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। কমলাবাড়িতে বাড়ি বাড়ি প্রচারের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মানস। ভোট প্রচারের ফাঁকেই এদিন কঁচিকাঁচাদের সঙ্গে রথের দড়ি টানতেও দেখা যায় তাঁকে। মানস বলেন, লোকসভা ভোটে রায়গঞ্জ বিধানসভা থেকে ৪৬ হাজারের বেশি লিড ছিল আমাদের। এবার সেই ব্যবধান ৫০ হাজার হবে। প্রচারে মানুষের উপস্থিতি সেকথা প্রমাণ করছে।