• ধান ক্রয়ে কিছু অনিয়ম ধরা পড়তেই কড়া ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী খাদ্যদপ্তর
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়তেই কড়া ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে খাদ্যদপ্তর। ধান কেনায় যাতে একশো শতাংশ স্বচ্ছতা বজায় থাকে তার জন্য এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। ধান কেনা সহ দপ্তরের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে কয়েকদিন আগে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ এবং দপ্তরের শীর্ষআধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বৈঠক হয়। সেখানেই অনিয়মগুলির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যাচ্ছে, সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান রাইস মিলগুলিকে দিয়ে যে চাল তৈরি করা হয় সেখানে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। কিছু রাইস মিলকে ধান দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অফ লাইনে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই করা উচিত ছিল। সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান থেকে চাল তৈরি করতে গেলে মিলগুলিকে ধানের পরিমাণ অনুযায়ী ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা রাখতে হয়। যত টাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে তার থেকে বেশি ধান কিছু রাইস মিলকে দেওয়া হয়েছে। আবার এমন ঘটনাও হয়েছে যেখানে কোনও কোনও রাইস মিলের যা উৎপাদন ক্ষমতা তার থেকে অনেক কম ধান তাদের দেওয়া হয়েছে। দুটি ধরনের ঘটনা কেন হল, সেই ব্যাপারে ডিডিপিএস-কে (ডিরেক্টর,  প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই) তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


    সরকারি সংস্থাগুলি বিভিন্ন সমবায় সংস্থার মাধ্যমে যে ধান কেনে সেখানে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ায় ওই সমবায় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিছু সমবায় সংস্থাকে ধান কেনার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা কোনও ধান কেনার শিবিরই খোলেনি। লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও তারা ধান কেনেনি।  আবার কিছু নথিভুক্ত সমবায় সংস্থাকে কাজ করার দায়িত্বও দেয়নি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলি। দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ সমবায় সংস্থাগুলিকে আগামী খরিফ মরশুমে কাজ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  লক্ষ্যামাত্রার থেকে কম ধান কিনেছে এমন সমবায় সংস্থাও কিছু আছে। আগামী মরশুমে এই সংস্থাগুলির কাছে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিচ্ছুক সমবায় সংস্থাগুলিকে ধান কেনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করতে বলা হয়েছে সরকারি সংস্থাগুলিকে। খাদ্যদপ্তর বা কয়েকটি সরকারি সংস্থা নিজেরা স্থায়ী কেন্দ্র খুলে ধান কেনে। আবার ধানের একটা বড় অংশ কেনা হয় সমবায় সংস্থাগুলির মাধ্যমে। গ্রামে গিয়ে অস্থায়ী শিবির খুলে চাষিদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার দায়িত্ব পালন করে তারা কমিশন পায়। যেহেতু ধানের একটা বড় অংশ এভাবে কেনা হয় তাই এক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না খাদ্যদপ্তর। 


    রাইস মিলগুলি যাতে প্রাপ্য চাল সরকারকে ঠিক সময়ে দেয় সেই ব্যাপারে কড়া খাদ্যদপ্তর। সেন্ট্রাল পুলের জন্য চাল অবশ্যই ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে হবে। স্টেট পুলের চাল দেওয়ার জন্য সাধারণভাবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ১২টি মিলের কাছ থেকে ৫ হাজার টনের বেশি চাল ২ জুলাই পর্যন্ত বকেয়া আছে।
  • Link to this news (বর্তমান)