• মেঘের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাস দেন পশ্চিম বর্ধমানের যুবক
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোটবেলা থেকেই আবহাওয়া বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর কৌতূহলের শেষ নেই। ভূগোল নিয়ে স্নাতক হয়েছেন। ২০১৫ সাল থেকে আবহাওয়া বিজ্ঞান নিয়ে তিনি নিজের মতো করে পড়াশোনা শুরু করেন। তারপর তিনি আবহাওয়া দপ্তরে যান চাকরির জন্য। তবে আর্থিক অভাবের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর এগয়নি। চাকরিও হয়নি তাঁর। কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানের রূপনারায়ণপুরের সোমনাথ কুমার দাস এতেই দমে যাওয়ার পাত্র নন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। প্রথম প্রথম আভাস সেভাবে মিলছিল না। আরও পড়াশোনা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যান তিনি। এখন অঙ্ক কষে তিনি বলে দিতে পারেন, কতক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি নামবে বা মেঘ সরিয়ে কখন রোদের দেখা মিলতে পারে। সেসব মিলেও যাচ্ছে সিংহভাগ ক্ষেত্রে। তাঁর এই ‘ক্ষমতা’র কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার মানুষজন এখন কোথাও বেরনোর আগে মেঘ-বৃষ্টির পূর্বাভাস জেনে নেন তাঁর থেকেই। 


    সোমনাথের হাতে সারাক্ষণ চাঁদা-কম্পাস। এসব দিয়ে তিনি মেঘের গতিবিধি বিশ্লেষণ করেন। তার ভিত্তিতে একেবারে স্থানীয় স্তরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেন। সোমনাথ বলছিলেন, ‘এখন তো অনেক অ্যাপ রয়েছে। কিন্তু ওসব দেখে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। মেঘের গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে হয় রীতিমতো অঙ্ক কষে।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া তাঁর পূর্বাভাস মিলে যাচ্ছে দেখে বহু মানুষের  বাহবাও পাচ্ছেন তিনি। সোমনাথের বাবার রূপনারায়ণপুর বাজারে সব্জির দোকান রয়েছে। সেই সঙ্গে এভাবে পূর্বাভাস দিয়ে তাঁর কিছু রোজগারও হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি গৃহশিক্ষকতা করি। আর ফোনে একটা গ্রুপ খুলেছি। সেখানে সব সদস্যকে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিই। তার বদলে দিনে এক টাকা করে মাসে ৩০ টাকা সাবস্ক্রিপশন চার্জ পাই আমি।’ কথায় কথায় জানা গেল, সাম্প্রতিক রেমাল ঘূর্ণিঝড়ের সময় তিনি সারারাত জেগেছিলেন। সুন্দরবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ত্রাণ শিবিরে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেন। এমনকী, সিকিমে সাম্প্রতিক ধসে বহু পর্যটক বিপাকে পড়লেও তাঁর পূর্বাভাস শুনে ৭৭ জনের একটি পর্যটক দল ভ্রমণ বাতিল করেছিল। অন্যথায় তাঁরাও  বিপদে পড়তে পারতেন। উপকৃত অনেকের বক্তব্য, এই পরিষেবা তো আর আবহাওয়া দপ্তর দেবে না। কর্মরত কৃষক বা যাঁদের মাঠেঘাটে নেমে কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য এই ধরনের পূর্বাভাস খুব কার্যকর হয়। এখনও শিক্ষকতার চাকরির স্বপ্ন দেখেন সোমনাথ। এত মানুষের উপকার হচ্ছে দেখে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার কাজও তিনি একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)