• সিএফের নামে তোলাবাজি, সাঁতরাগাছিতে ধৃত ১, পলাতক বাকিরা
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দু’চাকা হোক বা চারচাকা, সিএফ (সার্টিফিকেট অব ফিটনেস) করাতে গিয়ে ‘ফিজিক্যাল টেস্ট’-এর নামে তোলাবাজির শিকার হতে হচ্ছিল গাড়ি মালিকদের। সাঁতরাগাছি বাস টার্মিনাসের সিএফ গ্রাউন্ডে দিনের পর দিন চলছিল এই অবৈধ কারবার। তথ্যপ্রমাণ সহ সেই খবর ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মোটর ভেহিকলসের তরফে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে একজনকে। কয়েকজন অভিযুক্ত পলাতক।  


    পুলিস সূত্রে খবর, সিএফ গ্রাউন্ডে তোলাবাজির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জগাছা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে মোটর ভেহিকলস দপ্তর। সিএফ করাতে আসা গাড়ি পিছু অবৈধভাবে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগে শুরু হয় তদন্ত। পুলিস শিবা খান নামে অন্যতম এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। হাওড়ার বাঁকড়া এলাকায় বাড়ি হলেও পুলিস তাকে উলুবেড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। গৌতম নামে আরেক অভিযুক্ত পলাতক। তার বাড়ি উত্তর হাওড়ার সালকিয়ায় বলে জানতে পেরেছে পুলিস। এ প্রসঙ্গে হাওড়ার আরটিও অশোককুমার ঘোষ বলেন, ‘এরকম কাণ্ড যে ঘটে চলেছে, তা আমাদের জানাই ছিল না। আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর করে অভিযোগের কিছু সত্যতা টের পাওয়ার পর জগাছা থানায় এফআইআর করি। পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিএফ বা লাইসেন্স করাতে গেলে গ্রাউন্ডে যে এক টাকাও দিতে হয় না, সে বিষয়ে আমরা সচেতনতামূলক পোস্টার লাগিয়েছি ওখানে।’


    কীভাবে চলছিল গাড়ি বা বাইকের ‘ফিজিক্যাল টেস্ট’ এর নামে টাকা তোলার এই কারবার? জানা গিয়েছে, ফিটনেস সার্টিফিকেট করতে গেলে গাড়ির ইঞ্জিন এবং চেসিস নম্বর দরকার পড়ে। চারচাকার ক্ষেত্রে ইঞ্জিন থাকে গাড়ির নীচে। অনেক ক্ষেত্রে গাড়িতে রং করার কারণে বা ধুলো-কাদার আস্তরণে এই নম্বরগুলি ঢাকা পড়ে যায়। তখন গাড়ির নীচে ঢুকে নম্বরের জায়গাটি ঘসেমেজে সাফ করতে হয়। এই কাজ করে দেওয়ার জন্য প্রথম দিকে ১০-২০ টাকা ‘বকশিস’ নিতেন সংশ্লিষ্ট কর্মী। পরবর্তীতে ‘ফিজিক্যাল টেস্ট’ নাম দিয়ে শুরু হয় বেশি বেশি টাকা আদায়, যা তোলাবাজিরই নামান্তর বলে অভিযোগ।  বাইক থেকে ১০০, ছোট মালবাহী গাড়ি ২০০, লরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা—এভাবে  রীতিমতো রেট চার্ট তৈরি করে ফেলা হয়। এমন উদাহরণও মিলেছে, যেখানে এই টাকা দিতে অস্বীকার করায় সিএফ না দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক দোকানদারের কথায়, ‘গৌতম, শিবা, প্রদীপ—এরকম অনেক নাম শুনেছি, যারা টাকা তুলত। অফিসাররা সবটাই জানেন। কারণ তাঁদের গুমটির সামনেই তো দাঁড়িয়ে টাকা তুলত ওরা।’ পুলিস সূত্রের খবর, ধৃত শিবা খান জেরায় দাবি করেছে, মানুষকে সাহায্য করেই তারা ওই টাকা নিত। সিএফ গ্রাউন্ডের অফিসাররাও বিষয়টি জানতেন বলে দাবি করেছে সে। এই অবস্থায় ভুক্তভোগীরা চাইছেন, তদন্ত করে ‘ঘুঘুর বাসা’ পুরোপুরি উৎখাত করা হোক। উপরের স্তরের যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হোক।
  • Link to this news (বর্তমান)