• কাকদ্বীপে ভোর থেকেই জিলিপি কেনার লাইন, বিক্রি ২৫ কুইন্টাল
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মুচমুচে-রসালো-সুস্বাদু জিলিপি না হলে রথের উৎসব ঠিক জমে না। রথযাত্রার দিন গোটা রাজ্য জিলিপি-পাঁপড় ভাজায় মজে থাকে। দক্ষিণ সুন্দরবনের বাসিন্দাদের মধ্যে এ শখ একটু বেশিই। এদিন কাকদ্বীপ বাজারে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো জিলিপির দোকান খোলা ছিল। রাত পর্যন্ত প্রায় ২৫ কুইন্টাল জিলিপি বিক্রি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।


    রবিবার, রথযাত্রার দিন সকাল বেলা থেকেই জিলিপির জন্য হুড়োহুড়ি। সকাল সকাল দোকান খুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। খুলেই অবাক। দোকানের সামনে তখনই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে প্রায় জনা পনেরো করে ক্রেতা। সবাই জিলিপি কিনবেন। কিন্তু তখনও পর্যন্ত কোনও দোকানই উনুনে আগুন ধরায়নি। ফলে অনেক্ষণ দাঁড়াতে হল ক্রেতাদের। তবে তাতে ধৈর্যচ্যুতি ঘটল না। ‘আগে কোনওদিন এমন ঘটনা ঘটেনি’-বক্তব্য, এক দোকানদারের। এবছরই প্রথম এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল কাকদ্বীপ বাজারের মিষ্টির দোকানগুলি। জিলিপি কিনতে এসেছিলেন শঙ্কর শীল। তিনি বলেন, ‘বিকেলে তো মিষ্টির দোকানগুলিতে লাইন পড়ে। তাই ঠিকঠাক ভাজা হয় না জিলিপি। আবার রাতের দিকে এলে পাওয়া যায় না। তাই সকাল সকাল কিনে রেখে দেব। সারাদিন ধরে খাব।’ কাকদ্বীপের একটি প্রতিষ্ঠিত মিষ্টি দোকানের কর্ণধার নীলাদ্রি ঘোষ বলেন, ‘দোকান খোলার আগেই দেখি জিলিপি কেনার লাইন। দেখে ভালো লাগল।’


    অন্যদিকে কাকদ্বীপে স্বাধীনতা সংগ্রামীর উদ্যোগে শুরু হওয়া রথযাত্রাকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো উন্মাদনায় মাতলেন হাজার হাজার ভক্ত। রথযাত্রা কমিটির সহ সম্পাদক অপূর্বকুমার দাস জানান, প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে কাকদ্বীপের স্টিমার ঘাটে হিন্দু মিলন মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী মহারাজ হৃষিকেশ মণ্ডল। এলাকায় তিনি লাঠি খেলার মাস্টার নামে পরিচিত ছিলেন। এ খেলায় জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিলেন। প্রায় ৩১ বছর আগে হিন্দু মিলন মন্দিরের ব্যবস্থাপনায় ও নিজে উদ্যোগ নিয়ে রথযাত্রার আয়োজন করেছিলেন। আজও সেই রথকে ঘিরে কাকদ্বীপে প্রবল উন্মাদনা থাকে। রথকে ঘিরে মহারাজ লাঠি খেলার আয়োজন করতেন। তা দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতেন। রথ পরিক্রমার সময় কাকদ্বীপের জনবহুল এলাকাগুলিতে লাঠি খেলার প্রদর্শনী করা হতো। তবে মহারাজের মৃত্যুর পর রথযাত্রা অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। কারণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল লাঠি খেলা। এ বছর আবারও লাঠি খেলা চালু হল। এই রথযাত্রা বর্তমানে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে।
  • Link to this news (বর্তমান)